দূরভাগা রাজ্যে রাজনীতি আর ভোটের ইস্যু এখন ধর্মের উন্নয়ন আর মন্দির, মসজিদ স্থাপন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কাজের অধিকার গোল্লায় যাক!আইনের শাসন যখন ভেঙে পড়ে, মানুষের নিরাপত্তা শিকেতে উঠে তখন শাসক মানুষের ধর্মীয় আবেগ নিয়ে খেলা করে।হুমায়ুন ও দাবার বোরে মাত্র।
কয়েক ঘণ্টা পরই নতুন দল ঘোষণা করবেন হুমায়ুন কবীর। সকাল ১১ টায় বেলডাঙার খাগড়ুপাড়া মোড়ে সভা থেকে নতুন দলের ঘোষণা হবে। তার আগেই জানা গেল হুমায়ুনের নতুন দলের নাম। নতুন দলের নাম হতে চলেছে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় হুমায়ুন কবীরের নতুন দল নিয়ে পড়েছে ফ্লেক্স, ব্যানার। লেখা রয়েছে, ‘বাংলার জনসাধারণের স্বার্থে নতুন দলের সূচনা হচ্ছে।‘
আরও পড়ুনঃ কাঠগড়ায় ষড়যন্ত্র! ‘ইউনুস শাসনে হাত খোলা চরমপন্থীদের,’ ক্ষোভে ফুঁসছেন হাসিনা
নতুন দল ঘোষণার আগে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ-র প্রতিনিধিকে একান্ত সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নিজের মতামত জানালেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যোগ্য নেত্রী হিসাবে মনে করি…আজও। ভবিষ্যতেও যতদিন বেঁচে থাকব, নেত্রী হিসাবে যোগ্য মনে করব। কিন্তু, ১৫ বছর আগের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর বর্তমান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়…আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখা দিচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমার সত্যি সফ্ট কর্নার আছে। কারণ, একটা ট্যালেন্টেড ছেলে। রাজনীতি করবে পারবেন। আগামী দিনে যোগ্য রাজনীতিক হয়ে ওঠার সম্ভবনা আছে। যদি তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নেন…এখন পর্যন্ত যে ধরনের রাজনীতি তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন…কিছু তাঁর নাম নিয়ে…কিছু লোকজন যেভাবে মানুষের সঙ্গে অর্থ সংগ্রহ করছেন…এবং আইপ্যাকের কিছু ব্যক্তি, যাদের বাঙালি মুসলমানদের কাছে….”।
মতামত জানান বিরোধী দলনেতাকে নিয়েও। হুমায়ুন বলেন, ” শুভেন্দু অধিকারী আদ্যোপান্ত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। সাম্প্রদায়িক দলে গিয়ে দলের পক্ষে অনেক কিছু উল্টো-পাল্টা কথা বলছেন…কিন্তু একজন রাজনীতিক। রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে মেলামেশা করা যায় বা তাঁর সম্বন্ধে কোনও বাজে ধারণা আমার নেই।”
আরও পড়ুনঃ শীতের শহরে রামধনু! যৌন স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার মিছিল, লক্ষ্য একটাই সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা
নতুন দল। এক নম্বর ঘোষণা কী হবে ? এই প্রশ্নের উত্তরে হুমায়ুন বলেন, “এক নম্বর ঘোষণা, বাংলার মানুষের উন্নয়ন করা। সিপিএম ৩৪ বছরে ভোটব্যাঙ্ক হিসাবে বাংলার মানুষকে ব্যবহার করে তাদের ক্যাডার-ভিত্তিক করা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্পর্শ করা যায় না। সাধারণ মানুষ স্পর্শ করতে পারেন না। তাঁর আধিকারিকরা…আমলাতান্ত্রিক দল চলছে।” চলার পথে কাকে কাকে পাশে চান ? কোন দলের সঙ্গে জোট করে এগোত চান ? এর উত্তরে হুমায়ুন বলেন, “জোটের বিষয়টা অনেক জটিল আছে। একলা চলতে প্রস্তুত। ওপেন বলেছি। আজ ওপেন আমার পথ চলা শুরু হবে। আমি রাজ্য কমিটি ঘোষণা করব।”
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে কোন প্রতীকে লড়বেন হুমায়ুন কবীর ? তার নেপথ্যে রয়েছে ফুলের ভাবনা। এর আগে এমন জানিয়েছেন তিনি।









