বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে এমনিতেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। তার উপর গতকাল ইডি অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন আইপ্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেল। এই ঘটনার আবহেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষ তার মন্তব্যে বলেছেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় কয়লা চুরি, বালি চুরির মত ঘটনা ঘটছে এবং তা মানুষের সামনে আসছে। তিনি আরও বলেন এই চুরির টাকা সব রাজনীতিতেই ব্যবহার হয়।
আরও পড়ুনঃ ক্ষোভে ফুঁসছিলেন স্থানীয়রা; বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল প্রার্থী
দিলীপের মতে এই ঘটনা শুধুমাত্র ট্রেলার। বিজেপি ক্ষমতায় এলেই কেন্দ্রীয় সংস্থার ব্যাপক অভিযান শুরু হবে এবং তাতে ধরা পড়তে পারে বাংলার হেভিওয়েট রাজনীতিবিদরা। এর আগেও কয়লা চুরি কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের, গরু পাচারে জেল খেটেছেন তৃণমূল হেভিয়েট অনুব্রত মন্ডল এবং রেশন দুর্নীতিতে ফেঁসেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
শুধু তাই নয় এর আগেও আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযানে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শুধু তাই নয় ইডি মমতার বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে মামলাও করেছে যা এখনও চলছে। এই আবহে দিলীপের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাদের মতে ইডির অভিযানে যেভাবে এর আগেও তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতি ফাঁস হয়েছে তা আরও বাড়বে এবং কয়লা, বালি, গরু নিয়ে যে দুর্নীতি রাজ্যে চলছে তাতে বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
আরও পড়ুনঃ রণক্ষেত্র কলকাতা; এন্টালিতে তৃণমূল-বিজেপি খণ্ডযুদ্ধ
টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে নিয়মিত সংঘর্ষ হয় এবং তাতে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলেও দাবি তাদের। দিলীপ নিজেই বলেছেন এই পদক্ষেপ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন এই দুর্নীতির শিকড় অনেক দূর অব্দি রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির উচিত এদের মাথা খুঁজে বের করে তাদের শাস্তি দেওয়া। তিনি বলেন ৪ মে র পর বিজেপি বাংলায় সরকার গঠন করলেই সমস্ত দুর্নীতিবাজদের সাফ করে দেওয়া হবে এবং তাদের জেলে পোরা হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে এই দুর্নীতি বাংলার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে বসে আছে এবং এই সমস্যার মোকাবিলা করা নতুন সরকারের কাছে বিশাল চ্যালেঞ্জ হতে পারে।



