চা বলয়ের দীর্ঘদিনের জ্বলন্ত সমস্যা জমির পাট্টা। আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে সেই স্পর্শকাতর ইস্যুতেই এবার শ্রমিকদের আশ্বস্ত করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মধু চা বাগানের এক শ্রমিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট জানালেন, সরকার যখন কথা দিয়েছে, তখন পাট্টা আপনারা অবশ্যই পাবেন।
আরও পড়ুনঃ ‘বেনজির’ প্রত্যাবর্তন! ঘাসফুল ছেড়ে হঠাৎ কংগ্রেসের হাত ধরলেন মৌসম; বড় অস্বস্তি তৃণমূলের
এদিন আলিপুরদুয়ারের সুরেশ তুড়ি নামে এক শ্রমিক সরাসরি তাঁর সমস্যার কথা তুলে ধরেন। ১৯৯৫ সাল থেকে মধু চা বাগানে কাজ করা সুরেশ ক্ষোভের সঙ্গে জানান, দীর্ঘ তিন দশক পার হয়ে গেলেও আজও তিনি জমির পাট্টা বা স্বত্ব দলিল পাননি। তাঁর অভিযোগ, “কোম্পানির মালিক পুরনো বাড়ি মেরামত করেন না, আবার পাট্টার জন্য প্রয়োজনীয় এনওসি-ও (NOC) দিচ্ছেন না। আমরা না পাচ্ছি জমির অধিকার, না পাচ্ছি উপযুক্ত বাসস্থান।” চা শ্রমিকদের এই অসহায়তা কার্যত গোটা উত্তরবঙ্গের বাগিচা শ্রমিকদেরই প্রতিচ্ছবি।
সুরেশ তুড়ির সমস্যার কথা শুনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করে নেন যে, জমির পাট্টা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। বিরোধীদের বিঁধে তিনি বলেন, “সিপিএম সরকারের আমলে একটি দেওয়াল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানোও খুব কঠিন ছিল, পদে পদে এনওসি লাগত। এখন অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ছাড়পত্র বা আইনি জটিলতার কারণে কিছুটা সময় লাগছে।”
শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে অভিষেক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকার যত বেশি সম্ভব মানুষকে পাট্টা দেবে। আপনি যদি এতদিন অপেক্ষা করে থাকেন, তবে দয়া করে আর একটু ধৈর্য ধরুন। সরকার যদি আপনাকে আশ্বাস দিয়ে থাকে, তবে আপনি নিশ্চয়ই পাট্টা পাবেন।”
আরও পড়ুনঃ দীপু দাসের পরে খোকন দাস! পদ্মাপারে ফের বলি আরেক সংখ্যালঘু নাগরিক
অভিষেক আরও জানান, তৃণমূলের ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিটি প্রকৃত সমস্যা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো চা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো এবং যাঁদের সহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের হাত শক্ত করা।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে পাট্টা বিলি নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, অভিষেকের এই আশ্বাস তা প্রশমিত করতে কতটা সাহায্য করে, সেটাই এখন দেখার।





