কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
নতুন বছরের শুরুতেই সুখবর শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে।
বাঘ, সিংহ, হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ারের পর এবার সফল প্রজননে নতুন নজির, জন্ম নিল বিপন্নপ্রায় ম্যানড্রিলের শাবক। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন-এর তালিকায় ‘অতি বিপন্নপ্রায়’ হিসেবে চিহ্নিত এই বিশেষ প্রজাতির বাঁদর। ফলে শাবকের জন্মে খুশি বনদফতর ও জু-অথরিটি, উচ্ছ্বাস বেঙ্গল সাফারি কর্তৃপক্ষের কাছেও।
আরও পড়ুনঃ মালদহে বিএলও-র মৃত্যু! এসআইআরের কাজের চাপকে দুষছে মৃতার পরিবার
রাজ্যে একমাত্র উত্তরবঙ্গের বেঙ্গল সাফারি পার্কেই রয়েছে ম্যানড্রিল। সেখানেই সম্প্রতি শাবকের জন্ম দিয়েছে স্ত্রী ম্যানড্রিল ‘নিয়তি’। পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মা ও শাবক দু’জনেই সম্পূর্ণ সুস্থ।
ম্যানড্রিল পৃথিবীর সবচেয়ে রঙিন ও আকর্ষণীয় বাঁদর প্রজাতির মধ্যে একটি, আকারে বড়, শরীর শক্তিশালী। পুরুষ ম্যানড্রিল স্ত্রীদের তুলনায় অনেক বড় হয়। তাদের রঙিন মুখই প্রধান বৈশিষ্ট্য, নাকে উজ্জ্বল লাল রেখা, দু’পাশে নীল রঙের খাঁজ! ঠিক যেন প্রকৃতির নিজের আঁচড়।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে জামশেদপুর জুওলজিক্যাল পার্ক থেকে তিনটি ম্যানড্রিল আনা হয়েছিল বেঙ্গল সাফারিতে। তাদের জন্য আলাদা এনক্লোজার তৈরিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২৩ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা। শীতের সময়ে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য বিশেষ তাপ-ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কাজের ব্যস্ত সময়ে শিলিগুড়ির রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে শুটআউট! আপাতত বন্ধ ব্যাঙ্কের কাজ
সাফারি ডিরেক্টর বিজয় কুমার বলেন, “তিনটির মধ্যে বিষ্ণু ও নিয়তি— এই জুটিকে নিয়ে আমাদের বিশেষ নজর ছিল। দু’বছর পর নিয়তি একটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। ঠান্ডার জন্য খড়, চটের বস্তা দিয়ে উষ্ণ পরিবেশ রাখা হয়েছে। মায়ের খাবারেও বদল আনা হয়েছে।”
রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, “বিপন্নপ্রায় প্রজাতি সংরক্ষণে আমাদের জোরদার উদ্যোগ রয়েছে। ম্যানড্রিলের প্রজননে নজরদারির ফলেই এই সাফল্য।”
নতুন বছরের সূচনাতেই তাই এক অনন্য ‘প্রকৃতি উৎসব’ বেঙ্গল সাফারিতে, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে ছোট্ট সেই নতুন অতিথি।









