spot_img
Wednesday, 4 March, 2026
4 March
spot_img
HomeদেশKashi: কাশীর নীরব কান্না! উন্নয়নের নামে ইতিহাস ও প্রাণের নির্বাসন...

Kashi: কাশীর নীরব কান্না! উন্নয়নের নামে ইতিহাস ও প্রাণের নির্বাসন…

সবচেয়ে বেদনাদায়ক সত্য হলো, এই ধ্বংসের গভীরতা মানুষ নয়—শহরের সারোমেয়রাই আগে বুঝে ফেলেছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কাশী—শুধু একটি শহর নয়, সহস্রাব্দজুড়ে বয়ে চলা এক জীবন্ত সভ্যতা। গলি, ঘাট, মন্দির আর মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মিশে থাকা এই নগরীর আত্মা আজ গভীর সংকটে। মনিকর্ণিকা ঘাটের অদূরে সাম্প্রতিক ধ্বংসযজ্ঞে একে একে উন্মোচিত হচ্ছে ৫৩টিরও বেশি প্রাচীন মন্দির—যেগুলোর অনেকগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী সাধারণ বাড়ির আড়ালে লুকিয়ে ছিল। বুলডোজারের আঘাতে ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রী কুম্ভা মহাদেব মন্দির ও শ্রী চিন্তামণি মহাদেব মন্দির যেন নীরবে প্রশ্ন করছে—এটাই কি উন্নয়ন?

আরও পড়ুনঃ সরস্বতী পুজোর আগে শীতের শেষ ইনিংস! বাড়ছে উষ্ণতার পারদ

এই তথাকথিত উন্নয়নের পথে কাশী গড়ে উঠছে না; কাশী মুছে ফেলা হচ্ছে। যে মূর্তিগুলো আক্রমণ, সময় আর ইতিহাসের সব আঘাত সহ্য করেও টিকে ছিল, সেগুলো আজ রাস্তায় পড়ে আছে—মানুষের পায়ের নিচে পিষ্ট হচ্ছে। সভ্যতার ধারাবাহিকতাকে ভেঙে দিয়ে আধুনিকতার নামে ইতিহাসকে মাটিচাপা দেওয়া কি সত্যিই অগ্রগতি?

কিন্তু এই ধ্বংসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিকটি শুধু ইট-পাথরের নয়—এটি প্রাণের। গতকাল থেকে প্রায় ২৫টি সারোমেয় একটানা কাঁদছে, হাউমাউ করে ডাকছে। আশঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে জোর করে রিলোকেশনের। জন্ম থেকে যে গলি, যে ঘাট, যে মানুষের সঙ্গে বেড়ে ওঠা—সেই পরিচিত জগত থেকে ছিন্ন করে অন্যত্র ছেড়ে দেওয়া মানে তাদের জন্য প্রায় নিশ্চিত মৃত্যু। খাবারের অনিশ্চয়তা, নতুন সারোমেয়দের আক্রমণ, পথ না চেনার ভয়—এই ট্রমা অনেকেই সহ্য করতে পারছে না।

আরও পড়ুনঃ বিপাকে প্রশান্ত! রাজগঞ্জের বিডিওর চেয়ারে সৌরভকান্তি

সবচেয়ে বেদনাদায়ক সত্য হলো, এই ধ্বংসের গভীরতা মানুষ নয়—শহরের সারোমেয়রাই আগে বুঝে ফেলেছে। তাদের কান্না যেন কাশীর আত্মার কান্না; যেন বলে দিচ্ছে, যে উন্নয়নে আত্মা নেই, তা উন্নয়ন নয়। যে আধুনিকতা ইতিহাসকে মুছে দেয় আর নিরীহ প্রাণকে উৎখাত করে, তা সভ্যতা হতে পারে না।

আজ প্রয়োজন সম্মিলিত কণ্ঠ। পশুপ্রেমী, ঐতিহ্যপ্রেমী এবং যারা বিশ্বাস করেন কাশী কোনো প্রকল্প নয়—একটি জীবন্ত উত্তরাধিকার—তাদের সকলেরই দায়িত্ব আওয়াজ তোলা। নীরবতাই এই ধ্বংসকে ত্বরান্বিত করছে। কাশীকে বাঁচাতে হলে, ইতিহাস ও প্রাণ—উভয়কেই রক্ষা করতে হবে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন