কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
হেরিটেজ টয়ট্রেন ! যেটা শুধুমাত্র যাত্রী পরিষেবায় ব্যবহৃত যান নয় । এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শৈলরানির ইতিহাস । জড়িয়ে আছে ব্রিটিশ আমলের প্রযুক্তি আর পাহাড়বাসীর শিল্পকলা ও তাদের পরিশ্রম । এবার ব্রিটিশদের শিল্পকলাকে ইতিহাসের পাতা থেকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেল কর্তৃপক্ষ ।
কালের নিয়মে প্রযুক্তির কাছে হার মেনে ঐতিহাসিক সেই টয়ট্রেনের অনেক অংশই এখন মলিন হয়ে গিয়েছে । স্টিম ইঞ্জিনের জায়গায় এসেছে ডিজেল ইঞ্জিন । পুরনো হিল স্টেশনগুলোকে মেরামত ও সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে । পর্যটকদের স্বার্থে নামানো হয়েছে অত্যাধুনিক নতুন কামরাও । তবে বরাবর বিদেশি ও ভিন রাজ্যের পর্যটকদের মধ্যে হেরিটেজের সেই নস্টালজিক টয়ট্রেনের চাহিদা প্রথম থেকেই তুঙ্গে । যে কারণে এবার পর্যটকদের টয়ট্রেনের যাত্রায় শৈলরানির মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সঙ্গে ইতিহাসের সেই হাতছানিকেও তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।
আরও পড়ুনঃ ‘‘জয় জয় দেবী চরাচর সারে…’’, আজ সরস্বতী পুজো; শীতের অবসান ও বসন্তের আগমন বার্তা
ইতিমধ্যে গত বছর বেঙ্গালুরু থেকে দার্জিলিংয়ে আনা হয়েছিল দুটি হেরিটেজ টয়ট্রেনের ইঞ্জিন । বেঙ্গালুরু থেকে সড়কপথে আনা হয় ওই দুটি ডিজেল লোকো । NDM Class 6 – 606 ও 607। এরপর আরও একটি হেরিটেজ ইঞ্জিন যা তিনধারিয়া ওয়ার্কশপে ছিল, সেটিকেও মেরামত ও সংস্কারের পর ট্র্যাকে পরিষেবা দিতে নামানো হয়েছে । এবার ঐতিহাসিক টয়ট্রেনের 14টি হেরিটেজ কামরাকে আবার পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএইচআর ।
আগামী এক বছরের মধ্যে ব্রিটিশ আমলের সেই কামরাগুলোকে ব্রিটিশদের শিল্পকলা বজায় রেখেই মেরামত ও সংস্কার করা হবে । এতে পর্যটকরা ওই হেরিটেজ ইঞ্জিনের পাশাপাশি হেরিটেজ কামরায় চড়লে পাহাড়ের সেই নস্টালজিক অনুভূতি পাবেন
আরও পড়ুনঃ কলকাতার বাতাসে দাপট বিষাক্ত গ্যাসের! দূষণ মানতে বাধ্য হল পুরসভা
এই বিষয়ে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, “আমরা পর্যটকদের জন্য সবসময় নতুন কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করি । যাতে পর্যটকরা আরও বেশি করে টয়ট্রেনের প্রতি আকৃষ্ট হন । তবে টয়ট্রেনের ইতিহাস সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটকদের কাছে । টয়ট্রেনে চড়ার পাশাপাশি তাঁরা হেরিটেজের অনুভূতি পেতে চান । তাঁরা টয়ট্রেনের ইতিহাস জানতে চান ও ব্রিটিশ আমলে কীভাবে টয়ট্রেন চলতো সেই অভিজ্ঞতা জানতে চান । সেই কারণে তিনটি ব্রিটিশ আমলের স্টিম ইঞ্জিন মিউজিয়াম থেকে এনে মেরামত ও সংস্কার করে ট্র্যাকে নামানো হয়েছে । একটি সাফারিতে ব্যবহার করা হয়েছে । আরও দুটোকেও গুরুত্বপূর্ণ দুটি সাফারিতে ব্যবহার করা হবে । এবার আমরা ইঞ্জিনের পাশাপাশি হেরিটেজ কামরাও পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছি । এমন 14টি ব্রিটিশ আমলের কামরাকে আমরা এক বছরের মধ্যে মেরামত করে পর্যটকদের জন্য ব্যবহার করব ।”
এই বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের আহ্বায়ক রাজ বসু বলেন, “টয়ট্রেনের চাহিদা দিনে দিনে বাড়ছে । পর্যটকদের কাছে টয়ট্রেন একটা নস্টালজিক বিষয় । ডিএইচআর যে উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যি খুবই প্রশংসনীয় ।” ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী কমিটির সদস্য সাধন রায় বলেন, “এটা সত্যি খুব ভালো খবর । এর আগে হেরিটেজ ইঞ্জিন, আর এবার হেরিটেজ কামরা । এই ধরনের হেরিটেজ টয়ট্রেনের পরিষেবার আলাদা মূল্য রয়েছে পর্যটকদের মধ্যে । এতে আরও বেশি পর্যটকরা আকৃষ্ট হবেন ও ইতিহাসকে জানতে পারবেন ।”





