পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর ঘিরে তৈরি হওয়া (Delhi Police)বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই মুখ খুলল দিল্লি পুলিশ। বঙ্গভবনে তল্লাশি, অস্বাভাবিক নিরাপত্তা বলয় এবং চলাচলে বাধা দেওয়া হয়েছে এই অভিযোগগুলিকে সরাসরি খারিজ করে দিল দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার এক বিস্তারিত বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার দেবেশ চন্দ্র শ্রীবাস্তব স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা পুরোপুরি প্রোটোকল মেনেই দেওয়া হয়েছে এবং কোনও অনিয়ম ঘটেনি।
আরও পড়ুনঃ কেবল সৌন্দর্য নয়, টিকে থাকার ‘লাইফ-সাপোর্ট’; সেই রহস্যময় ২২টি বন্ধ ঘরের গল্প
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লিতে Z+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় রাজধানীতে তাঁর নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব দিল্লি পুলিশের। এই বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ আগেই আমাদের জানিয়ে দিয়েছিল।” তাঁর কথায়, সেই অনুযায়ীই চাণক্যপুরী ও হেইলি রোডে অবস্থিত বঙ্গভবনে বিস্তৃত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার ব্যবস্থা করা হয়।
দেবেশ শ্রীবাস্তব আরও জানান, দিল্লি পুলিশ সারা বছরই বিভিন্ন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সাহায্য নেয়। বঙ্গভবনের নিরাপত্তাতেও CAPF মোতায়েন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আজ কোনও পুলিশকর্মী বঙ্গভবনের ভিতরে প্রবেশ করেনি এবং সেখানে থাকা কারও চলাচলেও কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।”
দিল্লি পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা সূত্রে তারা জানতে পেরেছিল যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন রাজনৈতিক সমর্থক দিল্লিতে এসেছেন। তাঁরা দক্ষিণ দিল্লি, নিউ দিল্লি এবং সেন্ট্রাল দিল্লির বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে খবর ছিল, একাধিক ভিভিআইপি ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ওই জায়গাগুলিতে যেতে পারেন। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ আইপ্যাক-শুনানি গেল পিছিয়ে; ইডিকে সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট! কিন্তু কেন?
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বর্তমানে সংসদের বাজেট অধিবেশন চলছে। ফলে সংসদ ভবন ও তার আশপাশের এলাকা সহ গোটা রাজধানীতেই কড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিয়ম মেনে হোটেল, গেস্ট হাউস এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের রুটিন চেক করা হচ্ছে।
দেবেশ শ্রীবাস্তবের কথায়, এগুলি কোনও বিশেষ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়, বরং প্রতিদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থারই অংশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে তারা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে সব স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। এখনও পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা নিরাপত্তা ত্রুটির কথা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
এই বিবৃতির মাধ্যমে দিল্লি পুলিশ কার্যত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগগুলিকে নাকচ করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবিএই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আসলে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। ফলে দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের রাজনৈতিক বার্তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সবশেষে দেবেশ শ্রীবাস্তব বলেন, “দিল্লি পুলিশ রাজধানীতে আসা সব ভিভিআইপি ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা কোনওরকম আপস করি না।”





