ভোটের মুখে হাওড়ায় রীতিমতো হাড়হিম করা খুনের ঘটনায় উত্তাল গোটা এলাকা । ২৭ বছরের এক তরতাজা যুবক, পেশায় প্রোমোটার, তাকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার পিলখানা রোডে। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে গোটা হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য, যা সামনে আসতেই ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।
আরও পড়ুনঃ পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরে ১৮টি সম্ভাব্য সাইট চিহ্নিত Iron Beam-এর জন্য!
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন যুবক। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যুর খবর ছড়াতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। সন্ধ্যার পর থেকেই পিলখানায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশবাহিনী ও র্যাফ। এলাকায় শুরু হয় রুট মার্চ।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়ে গেছে। খুনের অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে হারুন খানের নাম। তার সঙ্গে উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর একটি ভিডিও ও একাধিক ছবি ভাইরাল হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মোটরবাইক চালাচ্ছেন বিধায়ক, আর পিছনে বসে রয়েছেন হারুন। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
এলাকায় গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয় গৌতম চৌধুরীকে। বিরোধীদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের সঙ্গে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যদিও পাল্টা জবাবে তৃণমূল শিবির বিজেপিকে আক্রমণ করেছে। বিজেপি নেতা অর্জুন সিং-এর সঙ্গে হারুন খানের একটি ছবি সামনে এনে তৃণমূলের দাবি, অপরাধীদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার ছবি থাকতেই পারে।
শুধু বর্তমান বিধায়ক নন, হাওড়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লর সঙ্গেও অভিযুক্তের ছবি ভাইরাল হয়েছে। তবে লক্ষ্মীরতন শুক্ল এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। এদিকে এখনও পর্যন্ত খুনে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি অধরা। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের গ্রেফতারে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। তবে উত্তেজনা কমেনি। দমকল আগুন নেভাতে এলে তাদের কাজেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
খুনের ঘটনা কভার করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকরাও। পিলখানায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক ময়ূখঠাকুর চক্রবর্তী দুষ্কৃতীদের হামলার শিকার হন। তাঁর নাকের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় সাংবাদিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ তালিবান–পাকিস্তান সম্পর্ক তলানিতে; হাক্কানি নেতার হুমকিতে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা
অনেকেই বলছেন, বর্তমান সময়ে কোনও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ছবি তোলা অস্বাভাবিক নয়। জনসমক্ষে বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ বা সমর্থকেরা প্রায়ই নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, একজন অভিযুক্ত কীভাবে কোনও বিধায়কের ব্যক্তিগত মোটরবাইকের পিছনে বসে ঘুরতে পারেন? এই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব এখনও মেলেনি।
বিধানসভা ভোটের আগে এই খুনের ঘটনা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক মদত, অপরাধ জগতের যোগ সব মিলিয়ে হাওড়ার এই ঘটনা এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু। পুলিশের তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করা যায় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।









