একাধিক রাজনৈতিক হত্যার ছকে জড়িত থাকার অভিযোগে ধৃত এক পাকিস্তানি নাগরিকের বিচার শুরু হয়েছে। যে তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আসিফ মার্চেন্ট নামে ওই ব্যক্তিকে ২০২৪ সালে গ্রেফতার করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
আরও পড়ুনঃ বড় খবর! পাক পারমানবিক কেন্দ্রে তালিবান ড্রোন হামলা
ইরানের সঙ্গেও এই ব্যক্তির সখ্য ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন বোরোর ফেডারেল আদালতে মামলাটির শুনানি চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
গোয়েন্দাদের ধারণা, তৎকালীন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপরেও হামলার ছক ছিল এই ব্যক্তির। ২০২৪ সালের জুন মাসে পাকিস্তান থেকে নিউ ইয়র্কে গিয়েছিল আসিফ মার্চেন্ট। উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনির ব্যবস্থা করা। সেই মতো নিউ ইয়র্কে কয়েক জনের সঙ্গে দেখাও করেছিল ওই ব্যক্তি। ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার টার্গেটে ছিলেন। তবে এফবিআই এখনও আসিফ মার্চেন্ট সম্পর্কে অনেক তথ্য গোপন রেখেছে। আদালতে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে আসিফ দেখা করেছিল, তাঁদের মধ্যে সাদা পোশাকে উপস্থিত ছিলেন গোয়েন্দা সংস্থার দু’জন আধিকারিক। গোয়েন্দারা যে ভাড়াটে খুনি সেজে দেখা করতে আসতে পারেন, তা ভাবতেও পারেনি আসিফ। আর পাঁচটা ভাড়াটে খুনি ভেবে অগ্রিম হিসাবে গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকদের হাতে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারও দিয়েছিল সে। ফলে তার ছক বানচাল হয়ে যায় এবং গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ে যায় আসিফ।
আরও পড়ুনঃ ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ বাড়ি; ভোটার লিস্ট বেরোনোর আগেই ভূমিকম্প রাজ্যে
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও আসিফের টার্গেটে ছিল। আদালতে বলা হয়েছে যে আসিফ মার্চেন্ট একাধিক হোটেলে বৈঠকে করেছিল এবং তার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে লোকজনকে জানিয়েছিল। আদালতে তার ষড়যন্ত্রের ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বদের উপর হামলা চালিয়ে আসিফ মার্চেন্ট মার্কিন রাজনৈতিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে চেয়েছিল। ২০০০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে। খবরে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে ইরানে থাকত। তবে ইরান এ ধরনের কোনও ষড়যন্ত্রের কথা অস্বীকার করেছে।
চলতি মাসেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে রায়ান ওয়েসলি রুথকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে মার্কিন আদালত। আদালত সাজা ঘোষণার সময়ে এজলাসেই উপস্থিত ছিলেন তিনি। এজলাস ছাড়ার আগে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে চোখ মারেন রায়ান। হাসেনও। ২০২৪ সালের নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনের আগে অন্তত দু’বার ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রথম চেষ্টা হয় ওই বছরের জুলাইয়ে পেনসেলভেনিয়ায়। ট্রাম্পের কান ছুঁয়ে গুলি বেরিয়ে যায়। ওই হত্যার চেষ্টায় অভিযুক্ত টমাস ম্যাথিউ ক্রুকস আগেই নিহত হয়েছেন। পেনসেলভেনিয়ায় ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরে, ওই বছরেরই সেপ্টেম্বরে ফের ট্রাম্পের উপর হামলার চেষ্টা হয়। দ্বিতীয় চেষ্টা হয় ফ্লোরিডার গল্ফ কোর্সে। ফ্লোরিডার ঘটনায় ধরা পড়েন রায়ান। গত সেপ্টেম্বরেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এবার রায়ানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে মার্কিন আদালত।









