দোলে চারিদিকে রাধা-কৃষ্ণের পায়ে আবির দিয়ে রঙের উৎসবে মেতেছেন আম বাঙালি । হুগলির গুপ্তিপাড়া, বাঁশবেড়িয়া, সুগন্ধা, শ্রীরামপুর-সহ বিভিন্ন রাজবাড়ি ও বিভিন্ন কৃষ্ণের মন্দিরে দোল উৎসব পালন হয়েছে । সেই দিনই দুর্গাপুজোও হয় সাড়ম্বরে । এই পুজো চলে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত ।
আরও পড়ুনঃ বসন্তে বৃষ্টি ! তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাঝেই সপ্তাহান্তে ভিজবে বাংলা
আর এই অকাল দুর্গাপুজোর ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গিয়েছে শ্রীরামপুরের পঞ্চানন তলায় । প্রায় ২২২ বছর ধরে পুজো চলে আসছে এখানে । শ্রীরামপুরের দে পরিবারের বংশধরেরা এই পুজোর পত্তন করেন । কালের নিয়মে তা বারোয়ারি পুজোতে রূপান্তরিত হয়েছে । পল্লির মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই এই পুজোর দায়িত্ব নেন । ভোগ খাওয়ানো থেকে শীতল আরতি, সবই হয় এখানে । মহিষাসুরমর্দিনীর পায়ে আবির দিয়েই দোল উৎসব পালন করা হয় । এদিন মধ্য প্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শান্তির বার্তা দেন পুজো কমিটির সদস্যরা । যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, পোস্টার গলায় ঝুলিয়ে মিলন উৎসবে সম্মিলিত হন সকলে ।
হুগলি জেলার প্রাচীন ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন শ্রীরামপুরের পঞ্চাননতলার মহিষাসুরমর্দিনীর পুজো ৷ এই ঐতিহ্যবাহী পুজো দোলের দিন থেকে শুরু হয়ে টানা তিনদিন সাড়ম্বরে পালিত হয় । এ শারদীয়া দুর্গাপুজো নয়, তবুও মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তির রূপ অনেকটাই দেবী দুর্গার অনুরূপ । শুধু একটাই পার্থক্য ৷ কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর পরিবর্তে দেবীর দুই সখী জয়া ও বিজয়া অধিষ্ঠান করেন তাঁরা দু’পাশে ।

প্রচলিত আছে, অতীতের মড়কের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায় এলাকার মানুষ এই পুজোর সূচনা করেন । পরবর্তীকালে শ্রীরামপুরের দে পরিবার এই পুজোর জন্য জমি দান করেন । বর্তমানে শ্রীরামপুর টাউন ক্লাব এই ঐতিহ্যবাহী পুজোর আয়োজন ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে । আগে মহিষ বলি বা ছাগ বলির প্রচলন ছিল । বর্তমানে সেই প্রথা পরিবর্তিত হয়ে প্রতীকী বলির মাধ্যমে পালিত হয় । শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সামাজিক ঐক্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করে চলেছে এই পুজো ।
আরও পড়ুনঃ হরমুজ সঙ্কটে ভারতের পাশে ভারতবন্ধু রাশিয়া
এই পুজোর দায়িত্বে থাকা সদস্য তন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা শুনেছি যে শ্রীরামপুর পঞ্চাননতলায় একদা মড়ক শুরু হয়েছিল । তখন এখানকার অধিবাসীরা এই পুজোর প্রচলন করেন । শ্রীরামপুরের জমিদার যে পরিবার নগেন্দ্রনাথ দে এবং পুলিনবিহারী দে এই জমি দান করেন । স্থানীয় মানুষজনই এই পুজো করতেন, পরে শ্রীরামপুর টাউন ক্লাব এই পুজোর দায়িত্ব নেয় । আমাদের কাছে এই পুজো পুরোপুরি দুর্গাপুজো । দোলের দিন এই পুজো হয় বলে আমরা দোল দুর্গা বলি । বহু মানুষের সমাগম হয় এই তিন দিন । এই পুজোর ও দোলের দিন ক্লাবের সদস্যরা আমরা শান্তির বার্তা দিতে চাই । যেভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা অবিলম্বে বন্ধ হোক ।”
মায়ের পায়ে আবির দিয়েই গতকাল মহিষাসুরমর্দিনী বা দুর্গাপুজোর সূচনার কথা বলেন আরেক সদস্য পাপিয়া বসু । তাঁর কথায়, “আজ সকাল থেকেই পুজোর শুরু হয়েছে । আজকে মায়ের পায়ের আবির দিয়ে দোল উৎসব করি ৷ আর দশমীর দিন সিঁদুর খেলা হয় । আগামিকাল বহু মানুষের ভোগের আয়োজন করা হয়েছে । আমরা মহিলা সদস্যরা সন্ধ্যা আরতিতে শীতল ভোগের ব্যবস্থা করি ।”









