SFI কলকাতা জেলার ৩৪তম সম্মেলন শেষ হয়েছে। গত বুধবার গোলপার্কে প্রকাশ্য সমাবেশের মধ্যে দিয়ে জেলা সম্মেলনের সূচনা হয়। এরপর বৃহস্পতি ও শুক্রবার মৌলালি যুবকেন্দ্রে দু’দিন ধরে সম্মেলনের প্রতিনিধি অধিবেশন চলে। সেই সম্মেলন থেকে এসএফআই কলকাতা জেলার নব নির্বাচিত সভাপতি হয়েছেন মহম্মদ হাসিব হোসেন এবং সম্পাদক হয়েছেন শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল এখনও অভিযোগই করল না! অথচ রাতেই পথে সজল
সর্ব সম্মতিক্রমে গঠিত হয়েছে ৯১ জনের নতুন জেলা কমিটি। আর ৩০ জনের জেলা সম্পাদকমণ্ডলী গঠিত হয়েছে। সম্পাদক হিসেবে বিদায় নিয়েছেন দ্বিধিতি রায় এবং সভাপতি হিসাবে বিদায় নিয়েছেন বর্ণনা মুখোপাধ্যায়। নব নির্বাচিত কমিটি ও সম্মেলনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে।
এসএফআই নেতৃত্ব জানিয়েছেন যে পাঠ্যক্রমে সাম্প্রদায়িকীকরণ, এসআইআর-এর আড়ালে নাগরিকত্ব হরণের বিরুদ্ধে, শ্রম কোড বাতিলের দাবিতে, সরকারি স্কুল বাঁচাও, শিক্ষাখাতে সরকারি ব্যয় বরাদ্দ বাড়ানো, ক্যাম্পাসে লিঙ্গসাম্যের পক্ষে, আইসিসি নির্বাচন, জেএনইউ-সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্র রক্ষার সপক্ষে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সাম্প্রদায়িক বিভাজনমুক্ত ক্যাম্পাস এবং সকলের জন্য শিক্ষার অধিকারকে সুনিশ্চিত করার দাবিতে আগামিদিনে ধারাবাহিক লড়াই সংগ্রাম চলবে।
এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, “গণ আন্দোলনকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে আরএসএস-বিজেপি। ইতিহাস থেকে মুঘল চ্যাপ্টার বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এভাবেই ছেলেমেয়েদের ধর্ম নিরপেক্ষতার বিষয়টিই ভুলিয়ে দিতে চাইছে। রাজ্যের প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে এখন তৃণমূল বলে কিছুই নেই। নতুন প্রজন্ম চাইছে এসএফআই-কে। কারণ, এসএফআই প্রশ্ন তুলছে। প্রশ্ন করতে শেখাচ্ছে যে কেন বেশি টাকা নেওয়া হবে ভর্তিতে, শিক্ষাঙ্গনের পরিকাঠামো কেন ঠিকঠাক নেই, সঠিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না কেন?”
বিদায়ী জেলা সম্পাদক দ্বিধিতি রায় বলেন, “তৃণমূলের বদান্যতায় যখন কলকাতার স্কুলে-স্কুলে তালা পড়ছে, তখন আমরা স্কুলে-স্কুলে সংগঠন তৈরি করেছি। ৪২টি স্কুলে ইউনিট গড়ে তুলেছি। কুড়ি বছর পর একাধিক কলেজে ইউনিট গড়তে পেরেছি। কারণ, দুই সরকার তরুণদের মধ্যে বৈষম্যের মাধ্যম লড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কে কী খাবে, কে কী পরবে, কে কার পাশে বসবে ঠিক করে দিতে চাইছে। আমার সবাইকে নিয়ে চলার স্বপ্ন জারি রাখতে চাইছি। পড়ুয়াদের অধিকারের কথা বলছি।”
আরও পড়ুনঃ মুসলিম দেশগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক ইরানের
বিদায়ী জেলা সভাপতি বর্ণনা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘গত পনেরো বছরে পশ্চিমবঙ্গে আট হাজারের বেশি স্কুল বন্ধ হয়েছে। শুধু কলকাতাতেই ছয়শো স্কুল বন্ধ হয়েছে। কলেজে কলেজে ড্রপ আউট বাড়ছে। এসএফআই যখন প্রশ্ন তুলছে তখন ক্যাম্পাসের বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনী মারধর করেছে। হার মানেননি এসএফআই কর্মীরা। কঠিন পরিস্থিতিতেও কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয়ে ইউনিট গড়েছে। আগামীতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করাতে বাধ্য করবে এসএফআই।”







