একসময় যাঁর নামেই কাঁপত গোটা এলাকা, যিনি নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন, সেই জাহাঙ্গির খান এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে চর্চার কেন্দ্রে। ফলতার রাস্তায় তাঁকে কান ধরে হাঁটানো, কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো এবং পুলিশের কড়া নজরদারিতে এলাকায় নিয়ে যাওয়ার একাধিক ভিডিও ও ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক। একসময়ের প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে এখন সরগরম গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহল।
রবিবার পাঁচ দিনের প্রথম দফার পুলিশি হেফাজত শেষ হয় জাহাঙ্গির খানের৷ তাঁকে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ৷ আদালত তাঁকে আরও ছ‘দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে৷ তার পরই ‘পুষ্পা’কে নিয়ে ফলতার বিভিন্ন এলাকায় বের হয় পুলিশ। সেই সময় তাঁকে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়৷
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের অনন্যার অফিসে ম্যাসাজ মেশিন থেকে কন্ডোম- ফূর্তি-ঘরের সন্ধান!
জাহাঙ্গিরের পরনে ছিল কালো রঙের টিশার্ট৷ একই রঙের হাফ প্যান্ট পরেছিলেন তিনি৷ কোমরে দড়ি পরানো ছিল৷ পুলিশি ঘেরাটোপে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কখনও মাথা নিচু করে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় জাহাঙ্গিরকে৷ কখনও আবার কান ধরে হাঁটলেন ফলতার প্রাক্তন বিধায়ক। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এলাকার বহু মানুষ এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। কেউ মোবাইলে ভিডিয়ো করেন৷ কেউ আবার বিস্ময়ের সঙ্গে দেখেন একসময়কার ‘দাপুটে’ নেতার এই পরিণতি।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, কিছুদিন আগেও এলাকায় জাহাঙ্গির খানের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাবশালী ভূমিকার কথা প্রায়শই শোনা যেত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ছবিটা যেন সম্পূর্ণ উল্টো। রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে তৎকালীন বিজেপির জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় জাহাঙ্গির খানের নাম উঠে এসেছিল। অভিযোগ, সেই ঘটনায় নাড্ডার কনভয়ের গাড়িতে বড় বড় পাথর ছোড়া হয়, গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয়৷ ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআর-এ অভিযুক্তদের তালিকায় নাম ছিল জাহাঙ্গির খানেরও। যদিও পরবর্তীকালে মামলার তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল।
এবার ক্ষমতার পরিবর্তনের পর প্রায় ছয় বছরের পুরনো সেই মামলাকে নতুন করে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময় তদন্ত যথাযথভাবে হয়নি বলেই অভিযোগ। যার ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এবার পুনর্তদন্তের মাধ্যমে সেই মামলার সমস্ত নথি, তথ্যপ্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ফের খতিয়ে দেখা হবে৷
এরই মধ্যে কয়েকদিন আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়েন জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’। তারপর থেকেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। ফলে প্রশাসনিক চাপও ক্রমশ বাড়ছে তাঁর উপর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ও প্রভাব হারানোর পর এখন এক কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হয়েছেন ফলতার এই বিতর্কিত নেতা।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় ফলতায় ভোট কারচুপির একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে হয় প্রশাসনকে। সেই সময় নিজেকে ভোটের ময়দান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই কার্যত রাজনৈতিকভাবে আড়ালে চলে যান জাহাঙ্গির খান। তার পর গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে আবার তিনি আলোচনায় রয়েছেন৷


