ভয়াবহ ভূমিকম্প ইন্দোনেশিয়ায়। বৃহস্পতিবার ভোরে তীব্র কম্পন অনুভূত হয় ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব উপকূলে। জানা গিয়েছে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৪। কম্পনের তীব্রতায় ঘর-বাড়ি ভেঙে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। ভূমিকম্পের পরই সুনামির সতর্কতাও জারি করা হয়। আতঙ্কে ঘর-বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে পড়েন অনেকে। তবে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুনামির সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ ছেড়ে দে মা পালিয়ে বাঁচি! পালানোর চেষ্টায় ট্রাম্প
আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ৪৮ মিনিটে সুলাওয়েসি ও মালুকা দ্বীপের মাঝে মলুক্কা সাগরের ৩৫ কিলোমিটার গভীরে কম্পন অনুভূত হয়। কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল টারনাট। উত্তর ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় এই কম্পন অনুভূত হয়। ঘটনায় মানাডো শহর সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। একটি বড় বিল্ডিং ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় একজনের। আরও একজন আহত হয়েছেন বলে খবর। এছাড়াও, বেশ কয়েকটি বাড়ি ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ১০০০ কিলোমিটারের মধ্যে সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। মূলত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিনস, মালয়েশিয়ার উপকূল এলাকায় সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পের আধ ঘণ্টা পরেই উত্তর মিনাহাসায় ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় ৭৫ সেন্টিমিটার। বিটুং-এ ২০ সেন্টিমিটার ও উত্তর মালুকুতে প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার। তবে প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই জানানো হয়, সুনামির আশঙ্কা কেটে গিয়েছে। সতর্কবার্তাও তুলে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ ইরানের টার্গেট এবার Amazon; বন্ধ হতে পারে গুগল
এর আগে ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় ভয়বাহ ভূমিকম্প হয়েছিল। সেবার রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৯.১। কম্পনের তীব্রতায় ভেঙে পড়েছিল একের পর একে ঘর-বাড়ি। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় বহু মানুষের। ভূমিকম্পের পরই ভয়াবহ সুনামিতে শুধুমাত্র ইন্দোনেশিয়াতেই ১ লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।



