সোমেন দত্ত, কোচবিহারঃ
উত্তরবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আবারও উত্তেজনার আবহ তৈরি হল। কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঘিরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। বিএসএফ র গুলিতে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভোররাতে মাথাভাঙ্গা সীমান্তের সাতগ্রাম ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, গভীর রাতে সীমান্তের কাছে সন্দেহজনক নড়াচড়া লক্ষ্য করেন কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানরা। পরে জানা যায়, ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল অবৈধভাবে কাঁটাতার কেটে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিল।
আরও পড়ুনঃ চুপিসারে বড় পরিবর্তন! BSNL গ্রাহকদের ধাক্কা
বিএসএফ সূত্রে দাবি, প্রথমে ওই দলটিকে বারবার সতর্ক করা হয় এবং ফিরে যাওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু সতর্কবার্তা অমান্য করে তারা এগিয়ে আসতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়ে জওয়ানরা সতর্কতামূলক গুলি চালান। এরপরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
এই ধস্তাধস্তির মধ্যেই একজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে বিজিবির মাধ্যমে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আলী হোসেন (৪৯), তিনি বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার বাসিন্দা। ঘটনার পর সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘ঐতিহাসিক জয়’ দেখছে ইরান; দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, হু হু করে দাম কমল জ্বালানি তেলের
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় মাঝে মধ্যেই এমন অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়। কখনও চোরাচালান, কখনও বা অবৈধ পারাপারের উদ্দেশ্যে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। এই ঘটনার পর ফের প্রশ্ন উঠছে সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, তবুও প্রাণহানির ঘটনা প্রতিবারই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে। বর্তমানে পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। দুই দেশের প্রশাসনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।



