বাঙালির নববর্ষে লোক ভবনের এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের অতীত ঐতিহ্যের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে তরুণ প্রজন্মকে পরিবর্তনের ডাক দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। তাঁর দাবি, একদা অর্থনীতির শীর্ষে থাকা পশ্চিমবঙ্গ আজ অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। আর রাজ্যপালের এই ‘রিপোর্ট কার্ড’ পেশের পরই পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অর্থনীতির ‘এ কাল সে কাল’
বুধবার রাজ্যপাল পরিসংখ্যান তুলে ধরে দেখান, স্বাধীনতার পরবর্তী দশকগুলিতে পশ্চিমবঙ্গ ছিল দেশের সেরা তিন অর্থনীতির অন্যতম। তাঁর বক্তব্য, “৬০-এর দশকে দেশের মোট জিডিপি-র ১০ শতাংশের বেশি আসত পশ্চিমবঙ্গ থেকে। কিন্তু আজ জাতীয় পুঁজিতে আমাদের ভাগ ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।” এমনকি স্কুল-কলেজে নাম নথিভুক্তকরণের হারও জাতীয় গড়ের তুলনায় রাজ্যে কম বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “২৩ এপ্রিল আপনারা মমতাদির হিসাব করে দিন”; জলপাইগুড়িতে শাহ হুঙ্কার
রাজ্যপাল তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, “পরিবর্তনের অংশ হওয়ার প্রতিজ্ঞা করুন। এই পরিবর্তন আকাশ থেকে পড়বে না, আমাদেরই করতে হবে। যখন দেশ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে থাকতে পারে না।” তাঁর আক্ষেপ, আটের দশকের আগে মাথাপিছু আয়ে যে রাজ্য প্রথম সারিতে ছিল, আজ অন্তত ১৫টি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা নিশানায় ‘লাটসাহেব’
রাজ্যপালের এই মন্তব্যের কিছু পরেই কারও নাম না নিয়ে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলার লাটসাহেব, সবচেয়ে বড় বাড়িতে যিনি থাকেন, তিনি আজ বিবৃতি দিয়েছেন। নববর্ষে বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানানোর বদলে আমাকে গালি দিয়েছেন।” আকারে ইঙ্গিতে স্পষ্ট যে তিনি রাজ্যপালকেও নিশানা করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপালের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতের জবাবে মমতার পাল্টা যুক্তি, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের অধীনে সবকিছু থাকায় আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের হাতে নেই।
আরও পড়ুনঃ বিধাননগর কেন্দ্রে গ্রেফতার সুজিত ঘনিষ্ট প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার
সংঘাতের নতুন সমীকরণ?
গত মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাজ্যপাল রবির সঙ্গে নবান্নের সমীকরণ গত এক মাস কার্যত অম্লমধুরই ছিল। ২১ মার্চ রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু নববর্ষের দিনই রাজ্যপালের ‘আর্থিক অধঃপতন’ সংক্রান্ত মন্তব্য সেই সৌজন্যের আবহে ফাটল ধরাল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে পশ্চিমবঙ্গকে ‘মা দুর্গার মাটি’ বলে উল্লেখ করে হারানো গরিমা ফেরার ব্যাপারে আশাপ্রকাশ করলেও, তাঁর পেশ করা তথ্যের লড়াই এখন রাজপথের তর্কে পরিণত হয়েছে।



