Friday, 17 April, 2026
17 April
HomeদেশCAG Report: ক্যাগের রিপোর্টে বড় কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত! ৫৪,২৮২ কোটি টাকার হিসেব নেই...

CAG Report: ক্যাগের রিপোর্টে বড় কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত! ৫৪,২৮২ কোটি টাকার হিসেব নেই মোদী সরকারের!

এই টাকাটা কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এটা আমাদের পরিশ্রমের টাকা।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

চন্দন দাসঃ

আজ আমরা এমন একটা বিষয় নিয়ে কথা বলব যা শুনলে তোমার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যেতে পারে। আমরা সাধারণ মানুষ যখন ব্যাঙ্কে সামান্য কয়েক হাজার টাকা রাখি বা ইনকাম ট্যাক্স দিই, তখন সরকারকে পাই-পাই হিসেব দিতে হয়।

কিন্তু ভেবে দেখো তো, যদি দেশের কেন্দ্রীয় সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ফেলে আর তার কোনো রসিদ বা হিসেব না থাকে, তবে তাকে তুমি কী বলবে? এটা কি স্রেফ একটা প্রশাসনিক ভুল, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারি?

সম্প্রতি ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা ক্যাগ (CAG) পার্লামেন্টে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে যা নিয়ে এখন দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক খতিয়ান পরীক্ষা করে ক্যাগ জানিয়েছে যে, প্রায় ৫৪,২৮২ কোটি টাকার কোনো সঠিক হিসেব বা ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ সরকারের কাছে নেই।

একজন সচেতন নাগরিক এবং ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট হিসেবে তোমার জানা দরকার যে, এই টাকাটা আসলে কার? এটা তোমার এবং আমার মতো সাধারণ মানুষের দেওয়া ট্যাক্সের টাকা।

আরও পড়ুনঃ মানুষের পকেটে টান; ভারত এখন বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি!

ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট আসলে কী?

বিষয়টা সহজ করে বুঝতে গেলে একটা সাধারণ উদাহরণ দিই। ধরো, তুমি তোমার ছোট ভাইকে ১০০০ টাকা দিলে বাজারের ফর্দ মিলিয়ে জিনিসপত্র কিনে আনতে। বাজার থেকে ফেরার পর তুমি নিশ্চয়ই তার কাছে হিসেব চাইবে যে কোন জিনিস কত টাকায় কেনা হলো এবং বাকি টাকা কোথায়? সরকারি ভাষায় এই হিসেব বা রসিদটাকেই বলা হয় ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ বা সংক্ষেপে UC।

যখন কেন্দ্রীয় সরকার কোনো মন্ত্রক, রাজ্য সরকার বা কোনো সংস্থাকে নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের জন্য টাকা দেয়, তখন একটা নিয়ম থাকে। জেনারেল ফিন্যান্সিয়াল রুলস (GFR) ২০১৭-এর ২৩৮ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী, টাকা পাওয়ার ১২ মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাতে হয় যে সেই টাকা তারা ঠিক যে কাজের জন্য দেওয়া হয়েছিল, সেখানেই খরচ করেছে।

ক্যাগ বলছে, এখানেই বড়সড় গোলমাল পাকিয়েছে মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের ১৫টি মন্ত্রকের অধীনে এমন ৩৩,৯৭৩টি ক্ষেত্রে খরচের কোনো শংসাপত্র বা UC জমা পড়েনি। আর এই বকেয়া টাকার পরিমাণই হলো ৫৪,২৮২ কোটি টাকা।

কোন মন্ত্রক কত টাকা ‘হজম’ করে বসে আছে?

ক্যাগের রিপোর্ট অনুযায়ী, সব মন্ত্রক সমানভাবে দোষী নয়। কিছু নির্দিষ্ট মন্ত্রকের নাম এখানে বিশেষভাবে উঠে এসেছে যেখানকার হিসেব সবচেয়ে বেশি গোলমেলে। তুমি শুনলে অবাক হবে যে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক (Ministry of Housing and Urban Affairs)। এদের কাছে প্রায় ১৮,২৭২.৯১ কোটি টাকার কোনো হিসেব নেই। এর মানে হলো, শহর উন্নয়নের নামে বা গরিবের মাথার ওপর ছাদ দেওয়ার নামে যে বিশাল অংকের টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, তার একটা বড় অংশ আসলে কোথায় গেল বা কী কাজে লাগল, তার কোনো নথি সরকারের ফাইলেই নেই।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উচ্চ শিক্ষা বিভাগ (Department of Higher Education)। এখানে বকেয়া টাকার পরিমাণ প্রায় ১৪,৩৫৯.৭৬ কোটি টাকা। আমাদের দেশের আইআইটি (IIT), এনআইটি (NIT) বা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নতির জন্য এই টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রেও যখন এই বিপুল পরিমাণ টাকার হিসেব পাওয়া যায় না, তখন প্রশ্ন জাগে—আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কি সত্যিই সুরক্ষিত?

এর বাইরেও ক্যাগের নিশানায় এসেছে আরও ১৩টি মন্ত্রক। এই যে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকার হিসেব নেই, এটা কিন্তু ছোটখাটো কোনো ব্যাপার নয়। তুমি যদি টু-জি স্পেকট্রাম বা কয়লা কেলেঙ্কারির কথা ভাবো, তবে দেখবে সেই সময়ও কিন্তু এই ধরণের অডিট রিপোর্ট থেকেই বড় দুর্নীতির সূত্রপাত হয়েছিল। এখানেও ক্যাগের ইঙ্গিত অত্যন্ত স্পষ্ট—হিসেব নেই মানেই সেখানে দুর্নীতির রাস্তা খোলা রয়েছে।

বকেয়া কি শুধু এক বছরের?

এখানেই টুইস্ট! তুমি হয়তো ভাবছ যে গত এক বছরে হয়তো কাজের চাপে অফিসাররা হিসেব দিতে পারেননি। কিন্তু ক্যাগের রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে তা আরও ভয়ানক। এই ৫৪,২৮২ কোটি টাকার মধ্যে ৩৮,২৮৭.৫২ কোটি টাকা গত তিন অর্থবর্ষের (২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪)। কিন্তু এর চেয়েও বড় সত্য হলো, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট বকেয়া পড়ে আছে সেই ১৯৮৫-৮৬ সাল থেকে!

অর্থাৎ গোড়ায় গন্ডগোল।

ভেবে দেখো, আজ থেকে ৪০ বছর আগে যে কাজের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, তার হিসেব আজও জমা পড়েনি। সরকার বদলেছে, প্রধানমন্ত্রী বদলেছেন, কিন্তু ফাইলের জট আর টাকার গোলকধাঁধা একই রয়ে গেছে। ক্যাগ পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে, বছরের পর বছর এই শংসাপত্র জমা না দেওয়া আসলে একটি বড় ‘আর্থিক অনিয়ম’। কারণ, যখন কোনো গ্রান্ট বা অনুদান ব্যবহারের প্রমাণ থাকে না, তখন ধরে নেওয়া হয় যে সেই টাকাটা হয়তো আত্মসাৎ করা হয়েছে অথবা সম্পূর্ণ অন্য কোনো কাজে (যা অনুমোদিত নয়) খরচ করা হয়েছে।

কেন এই রিপোর্টকে আমরা গুরুত্ব দেব?

তুমি একজন নাগরিক হিসেবে জানো যে, সিএজি বা ক্যাগ হলো ভারতের সংবিধান স্বীকৃত একটি সংস্থা যাদের কাজ হলো সরকারের খরচের ওপর নজরদারি করা। তারা যখন কোনো রিপোর্ট দেয়, তার পেছনে থাকে কয়েক হাজার পাতার অডিট নোট এবং তথ্য। ক্যাগ বলছে, এই হিসেবহীন খরচ আসলে দেশের ফিন্যান্সিয়াল ডিসিপ্লিন বা আর্থিক শৃঙ্খলার অভাব।

যদি সরকার নিজেই নিয়ম মানে না, তবে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ট্যাক্সের স্বচ্ছতা আশা করে কীভাবে? এই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, এই বিশাল অংকের টাকা যে শুধু পড়ে আছে তা নয়, বরং এই হিসেব না থাকার ফলে সরকারের প্রকৃত আর্থিক ঘাটতি বা ‘ফিসকাল ডেফিসিট’ (Fiscal Deficit) কত, তার সঠিক ছবিটাও দেশের সামনে আসছে না। অর্থাৎ, কাগজ-কলমে সরকার যা দেখাচ্ছে, বাস্তবে পরিস্থিতি হয়তো তার চেয়েও অনেক বেশি খারাপ।

রাজ্য বনাম কেন্দ্র: দোষ কার?

সরকার অনেক সময় দাবি করে যে রাজ্য সরকারগুলো হিসেব দিতে দেরি করছে বলেই এই সমস্যা। কিন্তু ক্যাগের রিপোর্ট বলছে, দোষটা কেন্দ্রের নিজের ঘর থেকেও কম নয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলো যখন কোনো সংস্থাকে টাকা দেয়, তখন তাদের দায়িত্ব সেই খরচের তদারকি করা। যদি কোনো সংস্থা গত বছরের হিসেব না দেয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী তাদের পরের বছর আর কোনো টাকা দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, দিনের পর দিন কোনো হিসেব না পেয়েও সরকার আরও টাকা দিয়ে গেছে। একেই তো বলে ‘আর্থিক বিশৃঙ্খলা’।

এখানে একটা বড় প্রশ্ন থেকে যায়—কেন সরকার এই সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিল না? কেন দিনের পর দিন কোটি কোটি টাকা বকেয়া থাকার পরেও বরাদ্দ বন্ধ করা হলো না? এর পেছনে কি কোনো প্রভাবশালী মহলের হাত আছে? নাকি এটা স্রেফ লাল ফিতের ফাঁসে আটকে থাকা প্রশাসনিক ব্যর্থতা?

১. ভুল খাতের কারসাজি (Misclassification)

ক্যাগ তার রিপোর্টে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়েছে যে, প্রায় ১২,৭৫৪.৪৭ কোটি টাকা ভুল অ্যাকাউন্টিং হেডে দেখানো হয়েছে। বিষয়টাকে সহজ করে বলি। ধরো, তুমি তোমার অফিসের জন্য একটা ল্যাপটপ কিনলে (যা একটা সম্পদ বা Capital Asset), কিন্তু হিসেবের খাতায় সেটাকে দেখালে ‘অফিস মেনটেন্যান্স’ বা ‘চা-বিস্কুট খাওয়া’র খরচ (Revenue Expenditure) হিসেবে। এতে সমস্যা কী? সমস্যা হলো, এতে সরকারের ব্যালেন্স শিট বা বাজেটের প্রকৃত ছবিটা বদলে যায়।

সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো পরমাণু শক্তি বিভাগ (Department of Atomic Energy)। তারা ৩,০৮৯.৯৭ কোটি টাকার প্রাত্যহিক খরচকে ‘ক্যাপিটাল হেড’-এ দেখিয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে হবে সরকার পরিকাঠামো বা সম্পদে অনেক বিনিয়োগ করছে, কিন্তু আসলে সেই টাকা খরচ হয়েছে সাধারণ প্রশাসনিক কাজে। সিএজি-র মতে, এই ধরণের ভুল আসলে বাজেটকে ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখানোর একটা কৌশল মাত্র।

২. রহস্যময় ‘মাইনর হেড ৮০০’ (Minor Head 800)

একজন নাগরিক হিসেবে তোমার এই নামটা মনে রাখা খুব জরুরি—’মাইনর হেড ৮০০’। সরকারি অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে যখন কোনো খরচের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিভাগ খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন সেটাকে এই ‘বিবিধ’ বা ‘Miscellaneous’ বিভাগে রাখা হয়। কিন্তু ক্যাগ লক্ষ্য করেছে যে, সরকার এখন এটাকে একটা অভ্যাসে পরিণত করেছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, অনেক মন্ত্রক তাদের মোট খরচের ৫০ শতাংশের বেশি এই অস্পষ্ট ‘মাইনর হেড ৮০০’-তে রেকর্ড করেছে। যখন হাজার হাজার কোটি টাকা এই ‘বিবিধ’ খাতে দেখানো হয়, তখন সাধারণ মানুষ বা অডিটরদের পক্ষে বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়ে যে সেই টাকা আসলে কোন ঠিকাদারকে দেওয়া হলো বা কোন প্রকল্পে ব্যয় হলো।

ক্যাগ পরিষ্কার বলেছে, এটি আর্থিক স্বচ্ছতা বা ‘Transparency’ ধ্বংস করার একটি অন্যতম বড় মাধ্যম। এটাকে তুমি অনেকটা অন্ধকার ঘরের মতো ভাবতে পারো, যেখানে কী রাখা আছে তা বাইরে থেকে কেউ দেখতে পায় না।

৩. সাধারণ মানুষের ‘সেস’ (Cess) গেল কোথায়?

আমরা যখন পেট্রোল কিনি বা আয়কর দিই, তখন সরকার আমাদের থেকে ‘শিক্ষা সেস’ বা ‘স্বাস্থ্য সেস’ হিসেবে অতিরিক্ত কিছু টাকা নেয়। নিয়ম হলো, এই টাকাটা সাধারণ রাজস্বের সাথে মেশানো যাবে না; এটা একটা নির্দিষ্ট ফান্ডে (যেমন—প্রাথমিক শিক্ষা কোষ) জমা করতে হবে এবং শুধুমাত্র সেই খাতের উন্নতির জন্যই খরচ করতে হবে।

কিন্তু ক্যাগ দেখেছে, প্রায় ৯,২২২ কোটি টাকা যা বিভিন্ন সেস এবং লেভি থেকে আদায় করা হয়েছিল, তা নির্দিষ্ট ফান্ডে স্থানান্তরই করা হয়নি! অর্থাৎ, তুমি শিক্ষার উন্নতির জন্য যে অতিরিক্ত ট্যাক্স দিলে, সরকার সেই টাকাটা শিক্ষা খাতে না পাঠিয়ে অন্য কোথাও খরচ করে ফেলেছে অথবা নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে। এটা কি সাধারণ মানুষের সাথে এক ধরণের প্রতারণা নয়?

৪. রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও সরকারের গরমিল

এই পয়েন্টটা সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্যকর। ক্যাগের অডিটে দেখা গেছে যে, সরকারের নিজের খাতা বা লেজারে যে পরিমাণ নগদ টাকা (Cash Balance) আছে বলে দাবি করা হয়েছে, তার সাথে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) হিসাবের ৩,৮৮০.৬৭ কোটি টাকার কোনো মিল নেই।

ভেবে দেখো, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে যেখানে প্রতিটা পয়সার লেনদেন ট্র্যাজেবল হওয়ার কথা, সেখানে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আর কেন্দ্রীয় সরকারের হিসেবের মধ্যে কয়েক হাজার কোটির গরমিল কীভাবে সম্ভব? এর বাইরেও পররাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে প্রায় ৪৪,৭১৪.৭৭ কোটি টাকার একটি ‘অ্যাডভার্স ব্যালেন্স’ বা নেতিবাচক ব্যালেন্স ধরা পড়েছে, যা স্রেফ একটি “ভুল এন্ট্রি” বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

৫. সরকারের ডিফেন্স বা সাফাই

এত বড় অভিযোগের পর সরকার চুপ করে নেই। তাদের প্রধান দাবি হলো—সবটাই টেকনিক্যাল ভুল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, Public Financial Management System (PFMS)-এর কাজ চলছে এবং অনেক পুরনো ডেটা মাইগ্রেশনের সময় এই ধরণের ভুল বা গরমিল দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ, সরকার এটাকে কোনো ‘স্ক্যাম’ হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের মতে, এটি একটি পদ্ধতিগত ত্রুটি যা সময়ের সাথে সাথে ঠিক হয়ে যাবে।

তবুও কিছু প্রশ্ন তো রয়েই যায়

১. যদি এটা স্রেফ ‘টেকনিক্যাল ভুল’ হয়, তবে গত কয়েক দশক ধরে কেন এই ভুলগুলো সংশোধন করা হলো না?

২. পরমাণু শক্তি বা আবাসন মন্ত্রকের মতো সংবেদনশীল বিভাগে হাজার হাজার কোটি টাকার হিসেব না থাকা কি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি নয়?

৩. ভুল খাতে খরচ দেখিয়ে কি সাধারণ মানুষকে বাজেটের একটি কৃত্রিম ‘উজ্জ্বল ছবি’ দেখানো হচ্ছে?

আরও পড়ুনঃ ভারতকে অত্যাধুনিক আর-৩৭এম ‘অ্যাক্সহেড’ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব রাশিয়ার

৫৪,২৮২ কোটি টাকার এই হিসেবহীন খরচ এবং অন্যান্য আর্থিক অনিয়মগুলো প্রমাণ করে যে, আমাদের দেশের আর্থিক নজরদারি ব্যবস্থায় বড় ধরণের ফাটল তৈরি হয়েছে (আসলে রয়ে গেছে)। ক্যাগ তার কাজ করেছে, তারা লাল বাতি জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখন দায়িত্ব আমাদের—অর্থাৎ মিডিয়া এবং সাধারণ মানুষের—যাতে আমরা সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি পয়সার জবাবদিহি আদায় করতে পারি।

মনে রাখবে, এই টাকাটা কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এটা আমাদের পরিশ্রমের টাকা। তাই হিসেব তো দিতেই হবে আজ না হোক কাল!

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন