Monday, 20 April, 2026
20 April
HomeকলকাতাElection 2026: ত্রিশঙ্কুর পথে বাংলা না কি নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

Election 2026: ত্রিশঙ্কুর পথে বাংলা না কি নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

আসন্ন ২-দফার (২৩ ও ২৯ এপ্রিল) নির্বাচনে বাংলার ভোটাররা স্থিতিশীলতা নাকি পরিবর্তনের পরিবর্তন—কোন দিকে রায় দেবেন?

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

শুভজিৎ মিত্র, কলকাতা:

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় লড়াই এবার আর কেবল ‘মুখ্যমন্ত্রী বনাম প্রধান বিরোধী মুখ’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।পরিসংখ্যান বলছে,২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৪৮.০২% ভোট পেয়ে ২১৩টি আসনে জয়ী হয়েছিল।যেখানে বিজেপি ৩৮.১৫% ভোট নিয়ে ৭৭টি আসন দখল করে।বাম-কংগ্রেস জোট সেবার শূন্য হাতে ফিরলেও, সাম্প্রতিক উপনির্বাচন এবং লোকসভা ভোটের ট্রেন্ড বলছে—তৃতীয় শক্তির ভোট শতাংশ যদি ১০-১২ শতাংশে পৌঁছায়,তবে রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে।

নির্ণায়ক ১০ শতাংশ

রাজনৈতিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন হলো ‘ম্যাজিক ফিগার’ বা ১৪৮-এর অঙ্ক নিয়ে। যদি প্রধান দুই দলই এককভাবে এই সংখ্যা স্পর্শ করতে না পারে, তবেই ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতির উদ্ভব হবে।২০২১ সালে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ১০ শতাংশ।কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের ফলে শাসক দলের ভোট শতাংশে কিছুটা ক্ষয় হতে পারে।অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ যদি তাদের হারানো ভোট ব্যাংক পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং ১০ শতাংশের বেশি ভোট কাটতে সক্ষম হয়,তবে অনেক আসনেই জয়ের ব্যবধান কমে আসবে।

আরও পড়ুনঃ ‘সব বাংলাদেশি মুসলিমকে লাথি মেরে তাড়াব’, মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার

ত্রিশঙ্কু ফলের পথ!

আঞ্চলিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল—যেখানে বিজেপির দাপট ছিল।সেখানেও এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল।আবার দক্ষিণবঙ্গের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে আইএসএফ-এর মতো দলগুলো যদি ভালো ফল করে, তবে তা শাসক দলের ভোট ব্যাংকে ভাগ বসাবে।পরিসংখ্যানবিদদের মতে,রাজ্যের প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি আসনে যদি জয়ের ব্যবধান ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে,তবে সেখানে তৃতীয় শক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এটিই মূলত ত্রিশঙ্কু বিধানসভার পথ প্রশস্ত করতে পারে।

“ফ্লোটিং ভোটার ফ্যাক্টর”!

অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকগুলিও এবার পরিসংখ্যানের লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে। রাজ্যের বেকারত্ব হার,পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা এবং গ্রামীণ আবাস যোজনার মতো বিষয়গুলি নিয়ে মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা ইঙ্গিত দিয়েছে যে,তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ গতানুগতিক দুই মেরুর রাজনীতির বাইরে বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকছে।এই ‘ফ্লোটিং ভোটার’ বা ভাসমান ভোটারদের সংখ্যা যদি মোট ভোটারের ৫-৭ শতাংশ হয়,তবে তা যে কোনো দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বড় বাধা হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ কলকাতায় ‘নজিরবিহীন’ বৈঠক; যুদ্ধের মেজাজে আধাসেনা

নতুন অধ্যায়ের সূচনা!

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী,রাজ্যে এবার নতুন ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই নতুন প্রজন্ম মূলত কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ নিয়োগের দাবি জানাচ্ছে।পরিসংখ্যান বলছে যে,সমস্ত কেন্দ্রে গতবার তৃণমূল বা বিজেপি অল্প ব্যবধানে জিতেছিল,সেই সব জায়গায় ভোট কাটাকাটির অঙ্ক এবার আরও জটিল।যদি ১০-১৫টি আসনেও নির্দল বা ছোট আঞ্চলিক দলগুলো জয়ী হয়।তবে,সরকার গঠনের চাবিকাঠি তাদের হাতে চলে যেতে পারে।যা জোট রাজনীতির একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

পরিশেষে, আসন্ন ২-দফার (২৩ ও ২৯ এপ্রিল) নির্বাচনে বাংলার ভোটাররা স্থিতিশীলতা নাকি পরিবর্তনের পরিবর্তন—কোন দিকে রায় দেবেন? তা সময় বলবে।তবে বর্তমানে উপলব্ধ পরিসংখ্যান ও রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি বলছে,লড়াই এবার আর একমুখী বা দ্বিমুখী নয়।যদি ভোট শতাংশের মেরুকরণ ভেঙে যায় এবং তৃতীয় পক্ষ ১০ শতাংশের বেশি ভোট দখল করে,তবে ২০২৬-এর ফল সত্যিই ত্রিশঙ্কু বিধানসভার দিকে মোড় নিতে পারে,যেখানে কোনো একক দল নয়,বরং জোটবদ্ধ আলোচনাতেই নির্ধারিত হবে বাংলার পরবর্তী সরকার।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন