ভোটের হাতে গোনা আর দু’দিন বাকি। জেলায় জেলায় সভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই স্টেজ থেকে বারংবার মুখ্যমন্ত্রী বলে আসছেন, দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হতে পারে, যা আসলে বিজেপির রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা ছাড়া আর কিছুই নয়। সেই আশঙ্কা থেকেই রাজ্যে বিধানসভা ভোটপর্বের ঠিক আগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কর্মী গ্রেফতারের আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টে গেল তৃণমূল।
তৃণমূলের দাবি, তাদের প্রায় ৮০০ জন নেতা-কর্মীকে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে, যাঁদের যে কোনও সময় গ্রেফতার করা হতে পারে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতে আর্জি জানাল শাসকদল।
আরও পড়ুনঃ কান কাটা, গাল কাটা, সোনা, মনারা সাবধান…; বেচাল হলেই স্যাঁটা ভাঙা মার
কী জানাল আদালত?
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই বিষয়ে সওয়াল করেন তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি জানান, “তৃণমূলের প্রায় ৮০০ কর্মীকে গ্রেফতার করার আশঙ্কা করা হচ্ছে।” কমিশনের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি হাইকোর্টের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন। আদালতের তরফে এই মামলাটি দায়ের করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামী বুধবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভোটের দিন ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’! গাফিলতি মানবে না কমিশন
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের রেশ
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকেই তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভোটের মুখে শাসকদলের বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চালানো হবে। বিভিন্ন জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ তুলেছেন, কমিশনের শীর্ষমহল থেকেই তৃণমূল কর্মীদের নিশানা করার জন্য বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সেই আশঙ্কা থেকেই এবার আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটল তৃণমূল।
ভোটের মুখে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে শাসকদলের এই অনাস্থা এবং হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এখন বুধবারের শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, সে দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।



