২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এ বার বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন সদন। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ সন্দীপ সরকারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল দিল্লি।
কেবল সাসপেনশনই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করারও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিক কী অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে?
সূত্রের খবর, হিঙ্গলগঞ্জের ওসির বিরুদ্ধে কমিশনের দফতরে গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল – পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, স্থানীয় অসাধু চক্র বা রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে গোপন আঁতাত এবং ভোটের সময় সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়া।
গত ২১ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট পাঠান কমিশনে। সেই রিপোর্টের তথ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরেই বৃহস্পতিবার এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
আরও পড়ুনঃ ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে বাংলা; বললেন মনোজ
কমিশনের কড়া নির্দেশ
রাজ্যের মুখ্যসচিবকে লেখা চিঠিতে কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্র স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সন্দীপ সরকারকে অবিলম্বে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এই নির্দেশ কার্যকর করে আজ, অর্থাৎ ২৪ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যে কমিশনকে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট বা কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভারত কি দেউলিয়া হওয়ার পথে? ভাতা দিতে দিতে মুখ থুবড়ে পড়ছে ভারতের অর্থনীতি!
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসির পদটি বর্তমানে শূন্য হয়ে পড়ায়, সেখানে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে সেই নামও দ্রুত প্রস্তাব করতে বলেছে কমিশন। সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনার স্বার্থে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কোনও আধিকারিককে সেখানে আনার তোড়জোড় শুরু করেছে নবান্ন।
ভোটে কোনও রকম গাফিলতি বা পক্ষপাত যে বরদাস্ত করা হবে না, হিঙ্গলগঞ্জের ঘটনার মধ্য দিয়ে রাজ্য পুলিশ তথা প্রশাসনিক স্তরে সেই বার্তাই দিল দিল্লির নির্বাচন সদন। এই নির্দেশের প্রতিলিপি ইতিমধ্যেই রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP) এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, এই নির্দেশের পর হিঙ্গলগঞ্জ তথা সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কী রদবদল ঘটে।



