ছত্তিসগঢ়ের জশপুরে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। দুজন পাইলটকে নিয়ে সোমবার ২০ এপ্রিল, ২০২৬ আরার পাহাড়ে বিমান ভেঙে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুজন পাইলটই ঘটনাস্থলে মারা গিয়েছেন। যাত্রী-সহ একাধিক ব্যক্তির প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরের জশপুরের আরার পাহাড়ি এলাকার ওপর দিয়ে ওড়ার সময় বিমানটি আচমকাই ভারসাম্য হারাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা আকাশে বিকট শব্দ শুনতে পান এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই পাহাড়ের ঘন জঙ্গলের ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। পাহাড়ে বন্ধুর ভূপ্রকৃতি এবং ঘন জঙ্গল হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে দ্রুত সেখানে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ এখনই পালান, কাঁপছে বাড়ি; ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প সূর্যোদয়ের দেশে
প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, যান্ত্রিক গোলযোগ অথবা খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পাহাড়ের গায়ে আছড়ে পড়েছে। পড়ামাত্রই আগুনের গ্রাসে গোটা বিমান। আর সেই আগুনেই পুড়ে ছারখার হয়েছে সবাই। ২০২৫-এর ১২ জুন ভয়াবহ আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতি উসকে দিয়েছে আরেকবার ছত্তিসগঢ় বিমান দুর্ঘটনা। তবে ঠিক কতজন যাত্রী ওই বিমানে ছিলেন এবং বিমানটি কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছিল, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্রই জশপুর জেলা পুলিস এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে রওনা দেয়। তবে আরার পাহাড়ের ভৌগোলিক অবস্থান উদ্ধারকাজের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাস্তা দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকারী দলকেও পায়ে হেঁটে অনেকটা পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে। জশপুরের জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
ঘটনাস্থল থেকে আসা প্রাথমিক ছবিতে দেখা গেছে, বিমানের ধ্বংসাবশেষ চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে এবং তাতে আগুন ধরে গিয়েছিল। উদ্ধারকারী দলের আশঙ্কা, বিমানের ভেতরে থাকা কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ‘একটা গুলি চালালে, দুটো চালাব!’ হিমন্তের রণহুঙ্কার
ছত্তিশগড় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই দুর্ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে যে, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং তাদের পরিবারকে দ্রুত খবর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে যদি কাউকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
বিমানটি কি কোনও প্রশিক্ষণ সংস্থার ছিল নাকি বেসরকারি কোনও চার্টার্ড বিমান, তা খতিয়ে দেখছে ‘ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন’ । আবহাওয়া দপ্তরের মতে, গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় মাঝেমধ্যে ঝড়-বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশ ছিল। এই খারাপ দৃশ্যমানতা দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ হতে পারে কিনা, তাও তদন্তের আওতায় রাখা হচ্ছে। ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা সম্ভব হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই দুর্ঘটনায় জশপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আরার পাহাড়ের পাদদেশের গ্রামবাসীরা এই ঘটনার সাক্ষী থেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। উদ্ধারকাজে স্থানীয় গ্রামবাসীরাও প্রশাসনকে সবরকমভাবে সাহায্য করছেন।
জশপুরের এই বিমান দুর্ঘটনা আবারও পার্বত্য অঞ্চলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এবং ফরেনসিক তদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই বোঝা যাবে আসল ঘটনা কী ছিল। আপাতত পাহাড়ের চূড়ায় ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করাই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



