আবারও প্রকৃতির রোষের মুখে সূর্যোদয়ের দেশ। সোমবার সকালে উত্তর-পূর্ব জাপানের উপকূলে আছড়ে পড়ল রিখটার স্কেলে ৭.৫ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প। কম্পনের উৎসস্থল প্রশান্ত মহাসাগরের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে হওয়ায় তীব্র জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাপানের আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই ইওয়াতে, আওমোরি এবং হোক্কাইডো উপকূলে প্রায় ৩ মিটার (১০ ফুট) উচ্চতার সুনামির সতর্কতা জারি করেছে।
আরও পড়ুনঃ কলকাতার তাপমাত্রা আরও বাড়বে? জারি হয়ে গেল অ্যালার্ট
উপকূল জুড়ে চরম উদ্বেগ ও সতর্কতা
ভূমিকম্পের পরেই ইওয়াতে প্রিফেকচারের কুজি বন্দরে প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার প্রথম ঢেউটি আছড়ে পড়তে দেখা গিয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তড়িঘড়ি একটি ‘এমার্জেন্সি টাস্কফোর্স’ গঠন করেছেন। ওতসুচি এবং কামাইশির মতো বন্দর শহরগুলি থেকে হাজার হাজার বাসিন্দাকে উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনএইচকে (NHK)-তে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গিয়েছে, সুনামির অভিঘাত এড়াতে হাচিনোহে বন্দর থেকে জাহাজগুলিকে দ্রুত মাঝসমুদ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্তব্ধ জনজীবন ও বুলেট ট্রেন
ভূমিকম্পের তীব্রতা জাপানিজ সিসমিক স্কেলে ছিল ‘আপার ৫’, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত করার পাশাপাশি দুর্বল কংক্রিটের কাঠামো ধসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। নিরাপত্তার খাতিরে টোকিও এবং আওমোরির মধ্যে চলাচলকারী সমস্ত বুলেট ট্রেন পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ আর মাত্র ৭২ ঘণ্টা! ভোটার স্লিপ বিলিতে বিশেষ নির্দেশ কমিশনের
পারমাণবিক কেন্দ্রে হাই-অ্যালার্ট
২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তোহোকু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি তাদের ওনাগাওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিশেষ তল্লাশি শুরু করেছে। যদিও কেন্দ্রটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, তবুও সুনামির ধাক্কায় কোনও তেজস্ক্রিয় লিকেজ বা যান্ত্রিক ত্রুটি তৈরি হয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প প্রবণ দেশ। আজকের এই কম্পন আবারও এক দশক আগের সেই ভয়াল স্মৃতিকে উসকে দিয়েছে গোটা বিশ্বের কাছে।



