প্রথম দফার ভোটগ্রহণের শুরুতেই ইভিএম (EVM) বিভ্রাট ও কারচুপির মারাত্মক অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের দুই প্রান্ত বড়ঞা এবং নন্দীগ্রাম। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে বোতাম টিপলেও সেই ভোট সরাসরি বিজেপির খাতায় চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে শাসকদলের কর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এবং সাময়িকভাবে ভোটদান পর্ব ব্যাহত হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘খুব একটা উৎপাত করতে পারেনি, পারবেও না’! বার্তা শুভেন্দুর
কোথায় কোথায় উঠল অভিযোগ?
বড়ঞার গোদাপাড়া (বুথ নম্বর ১৮৬): বড়ঞা বিধানসভা কেন্দ্রের গোদাপাড়া এলাকার এই বুথে সকাল থেকেই ভোটাররা অভিযোগ তুলতে শুরু করেন যে, ইভিএমে জোড়াফুলের বোতাম টিপলেও তা বিজেপির পক্ষে রেকর্ড হচ্ছে। এই খবর জানাজানি হতেই বুথের বাইরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ভোটারদের দাবি, মেশিনে বড়সড় কারিগরি ত্রুটি বা ইচ্ছাকৃত কারচুপি করা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়।
নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া (বুথ নম্বর ১৫১): বড়ঞার ঘটনার ছায়া দেখা যায় হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও। বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫১ নম্বর বুথে শাসকদল তৃণমূলের তরফে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয় যে, ভোটাররা যাকে খুশি ভোট দিলেও তা বিজেপির ইভিএমেই চলে যাচ্ছে। এই গুরুতর অভিযোগ ঘিরে সেখানেও উত্তেজনা ছড়ায় এবং বেশ কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায় ভোটদান প্রক্রিয়া।
আরও পড়ুনঃ ‘TMC ভয় দেখাচ্ছে, আমরা ভোট দিতে পারছি না’, ডোমকলে বিস্ফোরক অভিযোগ ভোটারদের; রিপোর্ট তলব করল কমিশন
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও শাসকদলের এই জোরালো অভিযোগের জেরে দুটি এলাকাতেই যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের তরফে ইভিএমের এই কারিগরি ত্রুটি বা অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে প্রথম দফার সকালেই এমন ইভিএম বিতর্কে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।



