বঙ্গে রক্তপাতহীন নির্বাচন করাতে কমিশনের চেষ্টার অন্ত নেই। মার্চ মাস থেকে রাজ্যকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী, কমিশন নিযুক্ত পুলিশ অফিসার ও পর্যবেক্ষক নিয়োগ – সবই হয়েছে স্রেফ আইনশৃঙ্খলার এতটুকু অবনতি যাতে না হয় তার জন্য। গত ২৩ এপ্রিল ১৫২ টি আসনে প্রথম দফার নির্বাচন পর্ব নির্বিঘ্নেই মিটেছে, দু-একটি ছোটখাটো অশান্তি ছাড়া। ২৯ তারিখ কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গের ১৪২ আসনে ভোট। তার আগে নতুন করে ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে পাঠানো হয়েছে এখানে। এই তালিকাতেই চমক দিয়েছে কমিশন। নতুন ১১ পর্যবেক্ষকের তালিকার পয়লা নম্বরেই রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের আইপিএস, এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মা, যিনি যোগীরাজ্যে ‘সিংঘম’ বলে পরিচিত। আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কেন এমন দোর্দণ্ডপ্রতাপ অফিসারকে নিয়োগ করা হল? তৃণমূলের প্রশ্ন, কমিশন কি মনে করছে যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভোটে এত বেশি অশান্তি হবে যে এনকাউন্টারের প্রয়োজন?
আরও পড়ুনঃ ১০০ মিটার চৌহদ্দিতে আরও কড়া নজরদারি দ্বিতীয় দফায়; বুথমুখী রাস্তায় থাকবে সিসি ক্যামেরা!
কে এই অজয় পাল শর্মা? কেন তাঁকে নিয়ে এত আলোচনা? প্রোফাইল ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, ২০১১ সালের আইপিএস ব্যাচের ক্যাডার লুধিয়ানার অজয় পাল শর্মা। তিনি পাটিয়ালার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে বিডিএস অর্থাৎ ডেন্টাল সার্জারি পাশ করেছেন। তারপর তিনি পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন। এই মুহূর্তে প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। কড়া মেজাজ আর দাপটের জন্য উত্তরপ্রদেশের পুলিশ মহলে তিনি পরিচিত ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ বা ‘সিংঘম’ হিসেবে। নয়ডা, রামপুর, শামলি, জৌনপুর – যখন যেখানে পোস্টিং ছিল, ‘মাফিয়ারাজ’ দমনে অজয় পাল শর্মা কার্যত নজির রেখে গিয়েছেন। ২০২৫ সালে তিনি ডিআইজি পদে উন্নীত হন। এবছর তিনি আইজি হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে তাঁকেই পাঠিয়েছেন কমিশন। আপাতত দক্ষিণ ২৪ পরগনার দায়িত্বে অজয় পাল শর্মা। তিনি ছাড়াও এই জেলায় আরও ২ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ হুমকি দিলে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে, নইলে নজিরবিহীন শাস্তি!
এখন প্রশ্ন হল, উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট আইজি-কে কেন হঠাৎ বঙ্গের ভোটে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হল? এমনিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত। এখানকার ৩১ আসনের মধ্যে অনেকগুলিই কমিশনের নজরে স্পর্শকাতর। গত নির্বাচনগুলিতে রক্তাক্ত হয়েছে এখানকার মাটি। কিন্তু এবার তো নজিরবিহীন সুরক্ষায় বঙ্গে বিধানসভা ভোট হচ্ছে বলে দাবি করেছে কমিশন। অন্তত প্রথম দফা ভোটের পর গুটিকয়েক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়া এবং একটি বুথেও পুনর্নির্বাচনের দাবি না ওঠা তারই প্রমাণ। তবে কি দ্বিতীয় দফা ভোটে সেই অশান্তির আশঙ্কা করছে কমিশন? তাই অজয় পাল শর্মার মতো ‘সিংঘম’কে দায়িত্ব দেওয়া হল? প্রশ্ন থাকছে ঢের।



