শাসকদলের নেতাদের ‘হুমকি-হুঁশিয়ার’কে তোয়াক্কাই করলেন বাস্তবের ‘সিংঘম’ আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা৷ ভোটের আগের রাতেও রীতিমতো দাপিয়ে বেরালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ডায়মন্ড হারবার এলাকা৷
বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ডায়মন্ড হারবারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই আইপিএস অফিসারের দৃঢ় অবস্থান চোখে পড়ার মত। তৃণমূল কংগ্রেসের হুমকি-ধমকিকে উপেক্ষা করে এদিন রাতেও এলাকার ‘ঝামেলাবাজ’দের বাড়িতে সরাসরি গিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন৷ পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।
অজয় পাল শর্মার তৎপরতা
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, অজয় পাল শর্মা গত কয়েকদিন ধরে ডায়মন্ড হারবার এলাকার বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় রাতের বেলায়ও অভিযান চালাচ্ছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ঝামেলাবাজদের বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করে দিচ্ছেন যাতে ভোটের সময় কোনো অশান্তি না হয়। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপ এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই রাজ্যে ভোটের পুলিশ পর্যবেক্ষক হয়ে আসার পরেই ফলতায় তৃণমূূল প্রার্থী জাহাঙ্গীরকে রীতিমতো শাসানি দিয়ে আসে৷ তারপর থেকে তিনি সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন৷
অফিসার শর্মা বলেছেন যে, তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোনো রাজনৈতিক চাপ বা হুমকির কাছে মাথা নত করবেন না। তাঁর লক্ষ্য একটাই, নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘ক’-এ কলা, ‘খ’-এ খই! এক ঝলকে গত ১৫ বছরে তৃণমূলের ‘বর্ণমালা’
এলাকায় উত্তেজনা
ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভোটের আগে ও পরে এখানে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বেশি দেখা যায়। অজয় পাল শর্মার এই রাত্রিকালীন অভিযান এলাকার মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। অনেকে বলছেন, এমন একজন অফিসারের উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তার অনুভূতি বাড়িয়েছে।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু নেতা-কর্মী এই অভিযানকে “রাজনৈতিক হয়রানি” বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা অজয় পাল শর্মার প্রশংসা করে বলেছেন যে তিনি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘ভাজা মাছ উলটে খেতে না পারা’ মাস্টারমশাইকে কমিশনের মৃদু দাওয়াই! ‘অঙ্ক শেখান ভালো করে..হুমকি কেন?’
নির্বাচন কমিশনের নজরদারি
নির্বাচন কমিশন এবার রাজ্যের সব সংবেদনশীল এলাকায় কড়া নজর রাখছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অজয় পাল শর্মার মতো অফিসারদের এই ধরনের সক্রিয় ভূমিকা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে সাহায্য করছে।
ডায়মন্ড হারবার এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনা থাকলেও পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। অজয় পাল শর্মা তাঁর দায়িত্ব অব্যাহত রেখেছেন এবং বলেছেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।” রাজ্যের সাধারণ মানুষ এখন অপেক্ষায় রয়েছেন যে এই ধরনের সাহসী পদক্ষেপ ভোটের পরিবেশকে কতটা শান্তিপূর্ণ রাখতে পারে।


