Monday, 4 May, 2026
4 May
HomeকলকাতাKolkata: শুরু হল ভোটগণনা; তৃণমূলের গড় কলকাতা! KMC-র অন্তর্গত ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে...

Kolkata: শুরু হল ভোটগণনা; তৃণমূলের গড় কলকাতা! KMC-র অন্তর্গত ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে এবারে দেখা যাবে ‘ফুল’-এর পালাবাদল?

তৃণমূলই কি ক্ষমতায় থাকবে নাকি এবারে দেখা যাবে 'ফুল'-এর পালাবাদল? সেইদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয়। এই দফায় কলকাতার বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলকাতার গড় হিসেবে পরিচিত শহর কলকাতায় আছে মোট ১১টি বিধানসভা কেন্দ্র। এর মধ্যে উত্তর কলকাতায় রয়েছে ৭টি – চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, মানিকতলা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া। এবং দক্ষিণ কলকাতার অধীনে রয়েছে ৪টি আসন – কলকাতা পোর্ট, ভবানীপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েকটি আসন কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত – যাদবপুর, টালিগঞ্জ, কসবা, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম। এই আসনগুলিতে এবারও কি ফুটবে জোড়া ফুল? নাকি দাঁত ফোটাতে পারবে গেরুয়া শিবির?

লোকসভা ভোটের নিরিখে কলকাতা জেলার ১১টি আসনের মধ্যে মাত্র ২টি আসনে এগিয়ে ছিল বিজেপি। বাকি ৯টি আসনেই এগিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে কলকাতার ফল ছিল তৃণমূলের পক্ষে ১১-০। তবে এসআইআর এবং উচ্চ ভোটের হারের আবহে কলকাতায় বিজেপি খাতা খুলতে পারবে কি না, তা নিয়ে কৌতুহল আছে সব মহলে।

কলকাতার আসনগুলির আপডেট:

চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্র: ২০০১ সাল থেকে এই আসনটি তৃণমূল জিতে এসেছে। ২০১৪ থেকে এখানে বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে এই কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রের অন্তর্গত ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে আবার কাউন্সিলর রয়েছে বিজেপির। অপরদিকে কংগ্রেসের টিকিটে দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলর থাকা সন্তোষ পাঠককে এই আসনে এবার প্রার্থী করেছে বিজেপি।

এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্র: ২০১১ সাল থেকে এই আশনটি তৃণমূলের দখলে। লাগাতার তিনবার এখানে বিধায়ক থেকেছেন স্বর্ণকমল সাহা। তবে এবার এখানে তৃণমূল টিকিট দিয়েছে স্বর্ণকমলের পুত্র সন্দীপনকে। আর বিজেপি এখানে টিকিট দিয়েছে প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালকে। এই আসনে সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছে সিপিএম, কংগ্রেস এবং আমজনতা পার্টি। ২০২১ সালে এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল ৬৪.৮৩ শতাংশ ভোট পেয়ে।

বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্র: তিনবারের বিধায়ক পরেশ পালকে এবার আর টিকিট দেয়নি তৃণমূল। তার বদলে কুণাল ঘোষ লড়ছেন এই কেন্দ্র থেকে। বিজেপির টিকিটে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পার্থ চৌধুরী। এছাড়া কংগ্রেস এখানে প্রার্থী করেছে শাহিন জাভেদকে আর সিপিএমের হয়ে লড়ছেন পারমিতা রায়। ২০২১ সালে এই আসনটি তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছিল ৬৫ শতাংশ ভোটের সাথে।

জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্র: এই কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য ভোটার অবাঙালি। ২০০১ থেকে এই আসনটি নিজেদের দখলে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই আসনে এবার প্রার্থী বদল করেছে ঘাসফুল শিবির। এবার বিজয় উপাধ্যায়কে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। বিজেপি এখানে প্রার্থী করেছে বিজয় ওঝাকে। সিপিএম এবং কংগ্রেসও এই আসনে অবাঙালি প্রার্থী দিয়েছে। ২০২১ সালে এই আসনে তৃণমূল ৫২.৬৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ দুপুরের মধ‍্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে আগামী পাঁচ বছর কাদের হাতে পশ্চিমবঙ্গ, প্রত্যাবর্তন না পরিবর্তন?

শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্র: ২০১১ সাল থেকে এই আসনটি দখলে রেখেছেন ডঃ শশী পাঁজা। তাঁর মেয়ে পুজা পাঁজা এই আসনের অন্তর্গত ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ২০২১ সালে এই আসনটি তৃণমূল জিতেছিল ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে। এবারে এই আসনে শশীর বিপক্ষে বিজেপি প্রার্থী করেছে পূর্ণিমা চক্রবর্তীকে। বামেদের তরফ থেকে ফরোয়ার্ড ব্লক এই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে।

মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্র: প্রয়াত মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়াকে এবার এই আসনে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করেছে বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়কে। ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে এই আসন থেকে শ্রেয়ার মা ৭১ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন এই আসনে। আর ২০২১ সালে সাধন পাণ্ডে এই আসনে ৫০.৮২ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছিলেন। এই আসনটি ২০০১ সালে একবার তৃণমূল জিতেছিল। তারপর ২০০৬ সালে সিপিএম এই আসনটি পুনর্দখল করেছিল। পরে ২০১১ সাল থেকে টানা এটি তৃণমূলের দখলে থেকেছে।

কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্র: ২০০১ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনটি দখলে রেখেছে। বিদায়ী বিধায়ক অতীন ঘোষকেই এই আসনে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি দাঁড় করিয়েছে রীতেশ তিওয়ারিকে। সিপিএম এই আসনে অবাঙালি প্রার্থী দিয়েছে এবারে। ২০২১ সালে এই আসন থেকে ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের অতীন ঘোষ।

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র: হাইভোল্টেজ লড়াই ভবানীপুরে। এই আসনে এবার মুখোমুখি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। এই কেন্দ্রে গুজরাটি, অবাঙালি, বাঙালি মধ্যবিত্ত ভোটারদের পাশাপাশি প্রায় ২০ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। ২০১১ থেকে এই আসনটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। ২০১১ সালে পালাবদলের পরে উপনির্বাচনে জিতে এই আসন থেকেই বিধায়ক হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ২০১৬ সালেও এই আসনে লড়ে জেতেন মমতা। ২০২১ সালের ভোটে এই আসনটি তৃণমূলের দখলেই ছিল। সেবার জমিতেছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মমতা সেবারে নন্দীগ্রামে লড়েছিলেন এবং হেরেছিলেন। পরে উপনির্বাচনে ভবানীপুর থেকেই জিতে ফের বিধায়ক হন তিনি। এবার এই আসনে কী হতে চলেছে?

রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্র: ১৯৮২ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত কংগ্রেস, এবং তারপর থেকে একটানা তৃণমূল কংগ্রেস জিতে এসেছে এই আসনটি। ১৯৯৮ থেকে ২০২১ পর্যন্ত এই আসনের বিধায়ক ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ২০২১ সালে এই আসনে বিধায়ক হন দেবাশিস কুমার। এবারও এই আসনে তিনিই প্রার্থী। তাঁর বিপক্ষে আছেন প্রাক্তন সাংবাদিক তথা বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্ত। ২০২১ সালে এই আসনে ৫২.৭৯ শতাংশ ভোট পেয়ে ঘাসফুল শিবির জয়ী হয়েছিল।

কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্র: ফিরহাদ হাকিম তথা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। ২০১১ সাল থেকে এই আসনটি ঘাসফুলের দখলে। ২০২১ সালে এই আসনে ৬৯.২৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন ফিরহাদ। তাঁর নিকটবর্তী প্রার্থী বিজেপির অবধ কিশোর গুপ্ত পেয়েছিলেন মাত্র ৩৬ হাজার ভোট। এবার এই আসনে ফিরহাদের বিপক্ষে আছেন বিজেপির রাকেশ সিং। এছাড়া সিপিএম এই কেন্দ্রে ফৈয়জ আহমেদ খানকে দাঁড় করিয়েছে। কংগ্রেস প্রার্থী করেছে আকিব গুলজাররে। হুমায়ুনের আমজনতা পার্টিও এই আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র: ২০০৬ সাল থেকেই এই আসনটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। এবার এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করেছে শতরূপাকে। আর সিপিএম প্রার্থী করেছে আফরিন বেগমকে। কংগ্রেস এই আসনে প্রার্থী করেছে রোহন মিত্রকে। এই আসনটি মুসলিম অধ্যুষিত।

কসবা বিধানসভা কেন্দ্র: এই কেন্দ্রটি ২০১১ সাল থেকেই তৃণমূলের দখলে। বিদায়ী বিধায়ক জাভেদ আহমেদ খানকে এবারও তৃণমূল প্রার্থী করেছে এখানে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে এই আসনে। বিজেপি এই আসন থেকে পর্রার্থী করেছে সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে, সিপিএমের প্রার্থী দীপু দাস আর কংগ্রেস প্রার্থী করেছে মহম্মদ হাসিম জিশান আহমেদকে। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই আসনে তৃণমূল ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ মমতার রাশিফল কী ইঙ্গিত দিচ্ছে? নির্বাচন ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র: ২০১১ সাল থেকে টানা এই আসনটি দখলে রেখেছে তৃণমূল। ২০২১ সালে এই আসন থেকে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। এবার এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে শুভাশিস চক্রবর্তীকে। বিজেপি এখানে প্রার্থী করেছে শঙ্কর শিকদারকে। সিপিএম এই আসনে প্রার্থী করেছে ডঃ নিলয় মজুমদারকে।

বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র: ২০০১ থেকে এই আসনে তৃণমূলের হয়ে বিধায়ক থেকেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এবারে এই আসনে তৃণমূল প্রার্থী করেছে বেহালা পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়কে। বিজেপি এখানে প্রার্থী করেছে ইন্দ্রনীল খাঁকে। ২০২১ সালে এই আসন থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ৪৯.৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন।

যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র: একদা বাম দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল যাদবপুর। ২০১১ সালে পালাবদলের সময় অবশ্য বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে এই আসন থেকে হারিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূলের মণীশ গুপ্ত। তারপর ২০১৬ যদিও এই আসনে সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী জয়ী হয়েছিলেন। তবে ২০২১ সালে ফের তৃণমূল এই আসনে জয়ী হয়েছিল। সেবার তারা পেয়েছিল ৪৫.৫৪ শতাংশ ভোট। বিজেপি এই আসনে ছিল তৃতীয় স্থানে। এবারও তৃণমূল বিদায়ী বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারকে এই আসনে প্রার্থী করেছে। সিপিএম এই আসনে প্রার্থী করেছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে।

টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র: ২০০১ সাল থেকে এই আসনটি তৃণমূলের দখলে। এবারও এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী চারবারের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করেছে পাপিয়া অধিকারীকে। সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন ডঃ পার্থ প্রতিম বিশ্বাস। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এই আসনে অরূপ জয়ী হয়েছিলেন ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন