Wednesday, 6 May, 2026
6 May
HomeকলকাতাLeft Front: বেশিরভাগ জায়গাতে জামানত বাজেয়াপ্ত, 'আমিই সব জানি', 'অতিরিক্ত দম্ভ', ছোট...

Left Front: বেশিরভাগ জায়গাতে জামানত বাজেয়াপ্ত, ‘আমিই সব জানি’, ‘অতিরিক্ত দম্ভ’, ছোট সংবাদ মাধ্যমকে অবহেলা; শিক্ষিত শহুরে মধ্যবিত্তের ভোট পাওয়া যায়নি! ব্যর্থতা মানল বামেরা

সম্মান ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়েই ভাবনাচিন্তা বামেদের ৷

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

রাজ্যে ৩৪ বছরের পালা বদলের আগে থেকেই তথাকথিত শিক্ষিত শহুরে মধ্যবিত্তের ভোট পাচ্ছেন না বামেরা ৷ ২000 সালের পর থেকে বিধানসভা-ভিত্তিক বামেদের প্রাপ্ত ভোটের তথ্য সেটাই বলছে ৷ বিশেষত কলকাতা ও শহরতলির বিধানসভার তথ্য সেটাই উল্লেখ করছে, যা স্বীকার করছেন বাম নেতৃত্বও ৷

এবারও যাদবপুরের মতো বিধানসভাতেও লজ্জার হার দেখতে হচ্ছে বামেরদেরকে ৷ অতীতে এখানে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো নেতাকেও হারতে হয়েছে ৷ সেই ট্রেন্ড ছাব্বিশের নির্বাচনেও দেখা যাচ্ছে ৷

আরও পড়ুনঃ ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

শহর ও সংলগ্ন জেলায় কার্যত বিজয়ী প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের থেকে বাম প্রার্থীদের প্রাপ্ত কয়েক যোজনের দূরত্ব ৷ আরও কারণ বেশিরভাগ জায়গাতে জামানত বাজেয়াপ্ত, ‘আমিই সব জানি’, অতিরিক্ত দম্ভ, ছোট সংবাদ মাধ্যমকে অবহেলা, আগে পার্টি পরে দেশ, সবজান্তা আবভাব, নিচুতলার কর্মীদের কথায় গুরুত্ব না দেওয়া, ডুবিয়েছে বামপন্থীদের। যেখানে BJP ছোট সংবাদ মাধ্যমকে কাছে টেনে নিয়েছিল। যা মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গিয়েছিল।  আর তাই কীভাবে সেই সম্মান ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়েই ভাবনাচিন্তা বামেদের ৷ আবার অনেকে বাম নেতাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, এই শিক্ষিত শহুরে মধ্যবিত্তদের ভূমিকা কার্যত বিশ্বাসঘাতকদের মতো

দলের রাজ্য কমিটির এক নেতা বলেন, “আমাদের একাধিক গণসংগঠনের নেতাই বিজেপি ভোট দিয়েছে ৷ তাদের মতো শিক্ষিত শহুরে মধ্যবিত্তও আমাদের সঙ্গে মিটিংয়ে থেকেছেন ৷ নিঃশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীরা মিছিলে হেঁটেছেন ৷ এই নির্বাচনী প্রচারেও থেকেছেন ৷ অথচ, তারাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন ৷ ফলে, আমাদের ‘রুটস’-এ ফেরা ছাড়া উপায় নেই ৷ গরিব প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে ৷ এই ফ্যাসিস্টিক বিজেপির আমলে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হবেন ৷ আমাদের তাঁদের কাছে পৌঁছাতে হবে ৷ শিক্ষিত শহুরে মধ্যবিত্তকে বিশ্বাস করলে হবে না ৷

আরও পড়ুনঃ ‘আমরা চাকর ছিলাম’, বিস্ফোরক পাপিয়া

এন্টালি বিধানসভা: ২০১১ সালে ৩৭.৭১ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি হয় সিপিএমের ৷ ২০১৬ সালে ৩২.৭৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী ৷ একুশের বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফ প্রার্থীকে সমর্থন করায় প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট হারাতে হয় বামেদের, প্রাপ্ত ভোটের হার মাত্র ২.৭৮ শতাংশ ৷

যাদবপুর বিধানসভা: ২00১ সালে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ৫৪.৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন ৷ পরে নির্বাচনের ভোটের হার বৃদ্ধি ঘটে ৷ ২00৬ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ৬১.৩০ শতাংশ ভোট পান ৷ এর পর থেকেই পতন শুরু ৷ ২0১১ সালের ৪৪.৭৬ শতাংশ ভোট পান ৷ ২0১৬ সালের নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট ওই কেন্দ্র থেকে সুজন চক্রবর্তীকে প্রার্থী করে ৷ সেখানে তিনি ৪৯.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন ৷ কিন্তু পরের নির্বাচনে অর্থাৎ ২0২১-এর নির্বাচনে পরাজিত হয়ে ২৭.৫% ভোট পান ৷ আর এবার বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য মাত্র ৯.৬৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ৷

এরকম ভাবেই বালিগঞ্জ, ভবানীপুর, বেলেঘাটা, টালিগঞ্জ, বালিগঞ্জ, কসবা, রাসবিহারীর মতো একাধিক বিধানসভায় হারের পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি বামেরা ৷ ভোট শতাংশ তলানিতে ঠেকেছে ৷ পরপর বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৷

ফলে, তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত বামদের থেকেই মধ্যবিত্ত শিক্ষিত প্রায় মুখ ফিরিয়ে নেওয়াটা যথেষ্ট চাপের বিষয় বলে মনে করছেন বাম নেতৃত্বও ৷ সার্বিকভাবে কলকাতা, শহরতলি এলাকায় নিজেদের ক্রমশ ধসের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন সিপিআই পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা পরিষদের সম্পাদক প্রবীর দেব

তিনি বলেন, “পরপর নির্বাচনে শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের ভোট আমরা পাচ্ছি না ৷ কেন পাচ্ছি না, সেটা আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে ৷ শুধু তাই নয়, গত ১৫ বছরে একাধিক গুরুত্বপুর্ণ ইস্যু থাকলেও আমরা সেভাবে কিছুই করতে পারিনি ৷ আমরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারিনি ৷ ফলে, আমাদের সকল স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে ৷

আরও পড়ুনঃ অভিষেকের কাছে লালবাজার থেকে এল নির্দেশিকা

কার্যত একই সুর শোনা গেছে সিপিএম কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক কল্লোল মজুমদারের গলায় ৷ তিনিও বলেন, “ফলাফলের হিসাব তো সেটাই বলছে ৷ শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের ভোট পেলে ফলাফলের হাল এমন হত না ৷ আসলে বহু জায়গায় আমাদের সংগঠন নেই ৷ কর্মী নেই ৷ এই দিকটাও আমাদের দেখতে হবে ৷

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন