সাতসকালে দিল্লির বিমানে শোরগোল। খোদ তৃণমূলের (TMC) লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে বিমানের ভেতর ঘিরে ধরে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল একদল যুবকের বিরুদ্ধে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে কলকাতা থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন তিনি, সেখানেই ঘটে এই নজিরবিহীন ঘটনা। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় গোটা ঘটনার বিবরণ দিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাংসদ।
মহুয়া জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির (প্রতিরক্ষা) বৈঠকে যোগ দিতে ইন্ডিগোর ৬ই ৭১৯ (6E 719) বিমানে দিল্লি পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর আসন ছিল একদম সামনের সারিতে, ১এফ (1F)। মহুয়ার অভিযোগ, মাঝ আকাশেই চার পাঁচ জন যুবক দল বেঁধে তাঁর দিকে ‘কুৎসিত’ নজরে তাকাতে শুরু করে। বিমান চলাকালীন তারা পেছনের দিকে চলে গেলেও, বিপত্তি ঘটে অবতরণের ঠিক আগে।
সাংসদের অভিযোগ, বিমান যখন দিল্লির মাটি ছুঁয়েছে কিন্তু দরজা খোলেনি, ঠিক সেই সময় ওই যুবকরা তাঁকে ঘিরে ধরে। শুধু ঘিরে ধরাই নয়, ‘চোর’ স্লোগান দেয় তারা। তাঁর অস্বস্তি বাড়িয়ে গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ডিং করতে থাকে তারা। সাগরিকা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “এটি কোনও নাগরিকের ক্ষোভ বা জনরোষ নয়। এটি সরাসরি হেনস্থা এবং বিমানের ভেতর আমার নিরাপত্তার অধিকার লঙ্ঘন।”
আরও পড়ুনঃ রাত ১২ঃ০১ মিনিটে পশ্চিমবঙ্গে জারি রাষ্ট্রপতি শাসন!
ইতিমধ্যেই ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষকে ট্যাগ করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মহুয়া। তাঁর দাবি, ক্রু মেম্বারদের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে অবিলম্বে ওই যুবকদের চিহ্নিত করতে হবে। অপরাধীদের ‘নাম প্রকাশ্যে আনার’ পাশাপাশি তাঁদের আজীবনের জন্য বিমানে ওড়া নিষিদ্ধ বা ‘নো-ফ্লাই লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ কার ইন্ধনে পদত্যাগ করছেন না মাননীয়া!
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মহুয়া এই টুইটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ট্যাগ করে গোটা বিষয়টি জানিয়েছেন। বিজেপি বিরোধী জোটের অন্যতম মুখকে দিল্লিতে নামার মুখে এভাবে হেনস্থার শিকার হতে হওয়ায় কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে জোড়াফুল শিবির।
এখন দেখার, এই ‘উচ্ছৃঙ্খল’ যাত্রীদের বিরুদ্ধে ইন্ডিগো বা দিল্লি পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়। তবে বিমানের ভেতরে একজন জনপ্রতিনিধির এই নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে সরব সব পক্ষই।


