বাংলায় গেরুয়া ঝড়ের দাপটে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। আর ভরাডুবির এই আবহে এবার দলের অন্দরের ‘বিস্ফোরক’ কঙ্কাল সামনে আনলেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার। তাঁর নিশানায় সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কোহিনুরের সাফ দাবি, আরজি কর আন্দোলনের কঠিন সময়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ফেলে দেওয়ার জন্য অন্তর্ঘাতের ছক কষেছিলেন অভিষেক এবং তাঁর অনুগামীরা।
আরও পড়ুনঃ ‘আপনি কুত্তার চেয়ারম্যান’! তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ‘ভিসুভিয়াস’ বিস্ফোরণ
এদিন কার্যত ক্ষোভ উগরে দেন কোহিনুর। তিনি স্পষ্ট জানান, তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে অভিষেকের প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্ধ স্নেহ। কোহিনুর জানান, গত চার বছরে তৃণমূলের চরিত্র পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। যে দলটা মানুষের জন্য তৈরি হয়েছিল, তা রাতারাতি কর্পোরেট সংস্থায় পরিণত হয়েছে। আর এই পরিবর্তনের কারিগর হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পুরনো তৃণমূল আর এখনকার তৃণমূলের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ।
অভিষেকের বিরুদ্ধে তোপ দেগে কোহিনুর আরও এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি এও জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের লোক হতে গেলে আপনাকে তন্ত্রমতে পুজো দিতে হবে। প্রপার মন্ত্র, তন্ত্র আর নৈবেদ্যর পাশাপাশি সময়মতো ‘দক্ষিণা’ না পৌঁছলে ভগবান খুশি হতেন না। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, আগে তৃণমূল ভবনে সবার অবাধ যাতায়াত ছিল। এখন সেখানে কেবল সুব্রত বক্সী বসে থাকেন। আর সাধারণ কর্মী বা ব্লক স্তরের নেতারা সমস্যার কথা জানাতে ক্যামাক স্ট্রিটের সিঁড়ির তলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকেন। অভিষেকের দেখা পাওয়া তো দূরের কথা, তিনটে থেকে ছ’টার সেই রাজকীয় উপস্থিতির সময় সেখানে মাছি গলারও জায়গা থাকে না।
কোহিনুর মজুমদারের সবথেকে বড় অভিযোগটি ছিল আরজি কর আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। তিনি দাবি করেন, যখন গোটা রাজ্য আরজি কর নিয়ে উত্তাল, সেই সময় মমতার সরকারকে বিপাকে ফেলতে এবং গদিচ্যুত করতে পিছন থেকে কলকাঠি নেড়েছেন অভিষেক। এখানেই শেষ নয়, কসবা ল কলেজের একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে কোহিনুর যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, তখন তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে পোস্ট ডিলিট করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ UPI পেমেন্ট! চন্দ্রনাথ খুনে ব্যাঙ্ক ডিটেইলস সূত্র
দলের বর্তমান আর্থিক লেনদেন নিয়েও সরব হয়েছেন কোহিনুর। তাঁর দাবি, নিচুতলার কর্মীরা বা কাউন্সিলররা হাজার পাঁচেক টাকা নিলে তাকে বড় করে দেখানো হয়, কিন্তু দলের পদ পাওয়া বা প্রার্থী হওয়ার জন্য যে ১০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার খেলা চলে উচ্চস্তরে, তা নিয়ে কেউ কথা বলে না। এই অনৈতিক ‘ফিল্টারেশন প্রসেস’ বা অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতিই তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্বকে আজ বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন এই সাসপেন্ডেড নেতা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কোহিনুরের এই বয়ান কেবল ক্ষোভ নয়, বরং শাসক দলের অন্দরে বয়ে চলা তীব্র গৃহযুদ্ধেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আরজি কর ইস্যুতে অন্তর্ঘাতের যে অভিযোগ তিনি তুলেছেন, তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এখন দেখার, দলীয় মুখপাত্রের এই বিস্ফোরক দাবির পর ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়।


