আজ ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় সওয়াল করতে কলকাতা হাই কোর্টে গিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলার শুনানি শেষে তিনি যখন বের হচ্ছেন, তখন হুলস্থুল কাণ্ড বাঁধে আদালত চত্বরে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে ফেলে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি এমনই হয় যে মমতাকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যেতে পারেনি পুলিশ। এই আবহে প্রধান বিচারপতির কাছে গিয়ে তৃণমূলের তরফ থেকে বলা হয়, ‘দেখুন বাইরে কী অবস্থা, এভাবে বের হওয়া অসম্ভব’। এরপরই প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশে শান্ত হওয়ার বার্তা দেন। তারপরও হাই কোর্ট চত্বরে বজায় ছিল উত্তেজনা। কোনও রকমে মমতাকে ঘিরে ধরে গাড়িতে ওঠান তৃণমূলের আইনজীবী সেলের সদস্যরা।
আরও পড়ুনঃ নজিরবিহীন, কালো গাউন পরে হঠাৎ হাইকোর্টে হাজির মমতা
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সকাল আইনজীবীদের প্রচলিত কালো কোট ও সাদা ব্যান্ড পরে কলকাতা হাই কোর্টে পৌঁছতে দেখা গিয়েছিল মমতাকে। আজ মামলার শুনানি চলাকালীন তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, রাজ্য জুড়ে নবদম্পতি থেকে বৃদ্ধদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, এক ১৮ বছর বয়সি সদ্য বিবাহিত তরুণীকে নাকি বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং তাঁকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। এদিকে মমতার আরও অভিযোগ, তাঁকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে থানায় যেতে দেওয়া হচ্ছে না, তাই তিনি অনলাইনে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মমতার কথায়, সংখ্যালঘু থেকে তপশিলি জাতির ওপর হামলা করা হচ্ছে। মামলাকারী আইনজীবীদের আরও দাবি, রাজ্যে বুলডোজার চলছে। মমতা বলেন, ‘এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়। বাংলাকে বাঁচাতে হবে।’ আদালতে সওয়াল করা হয় তিলজলা কাণ্ডে বুলডোজার চালানো নিয়ে। এমনকী ভোটের পরে হগ মার্কেটে বুলডোজার চালানোর ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এই আবহে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়, বেআইনি ভবন ভাঙতে হলেও বুলডোজার চালানোর আগে যাতে আদালতের অনুমতি নিতে হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘প্লিজ প্লিজ স্যর, বিচারপতির কাছে হাত জোড় করে ভেঙে পড়লেন মমতা
উল্লেখ্য, এই মামলায় সওয়ালকারী অন্য আইনজীবী হলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, ভোট-পরবর্তী অশান্তিতে তৃণমূলের একাধিক পার্টি অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা সাংসদ কল্যাণের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে সেই মামলার সওয়াল করতেই আইনজীবীর পোশাকে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাই কোর্টে প্রবেশের সময় তাঁকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। আদালত চত্বরে উপস্থিত বহু আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতুহল তৈরি হয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টেও এসআইআর মামলায় নিজের বক্তব্য পেশ করতে আদালতে পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা।


