গুরুগ্রামের শিকোহপুর জমি কেনাবেচা তথা আর্থিক তছরুপের মামলায় বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢ়ড়ার স্বামী রবার্ট বঢ়ড়া। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর দায়ের করা পিএমএলএ মামলায় শনিবার তাঁর জামিন মঞ্জুর করে দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ জেলা আদালত৷ বিশেষ বিচারক সুশান্ত চাঙ্গোত্রা ৫০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ টাকার এক জামিনদারের শর্তে রবার্ট বঢ়ড়ার এই জামিনের আবেদন গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুনঃ মেঝেতেই চিকিৎসা! ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ২০০৮ সালের একটি বিতর্কিত জমি চুক্তি। ইডি-র দাবি, হরিয়ানার গুরুগ্রামের শিকোহপুর গ্রামে ৩.৫৩ একরের একটি মহামূল্যবান ভূখণ্ড রবার্ট বঢ়ড়া ‘স্কাই লাইট হসপিটালিটি’, ওমকারেশ্বর প্রোপার্টিজের কাছ থেকে বেআইনিভাবে হাতিয়ে নিয়েছিল। ইডি-র চার্জশিটে বলা হয়েছে, জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়ায় অসত্য তথ্য পেশ করা হয়েছিল এবং রবার্ট বঢ়ড়া নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে সেই কৃষিজমির বাণিজ্যিক লাইসেন্স আদায় করেছিলেন।
আদালতে তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী জোয়েব হোসেন সওয়াল করেন, জমি হস্তান্তরের জন্য ৭.৫ কোটি টাকার যে চেক দেখানো হয়েছিল, তা কোনওদিন ব্যাঙ্কেই ভাঙানো বা এনক্যাশ করা হয়নি। অর্থাৎ, কার্যত অর্থ লেনদেন ছাড়াই জমির মালিকানা বদল হয়।
পরবর্তীকালে ওই জমিটিই বহুগুণ বেশি দামে ডিএলএফ রিয়েলটির কাছে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মুনাফা কামানো হয়। এই জালিয়াতি প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩৭.৬৪ কোটি টাকার ‘প্রসেডস অব ক্রাইম’ বা অপরাধলব্ধ সম্পত্তি চিহ্নিত করে গত বছরের জুলাইয়ে বঢ়ড়ার ৪৩টি স্থাবর সম্পত্তি সাময়িকভাবে ক্রোক করেছিল ইডি।
আরও পড়ুনঃ অভিষেক গড়ে শুভেন্দুর ‘ডায়মন্ড-মডেল’! বড় বৈঠক
শুক্রবারই দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত ইডি-র পেশ করা এই চার্জশিটটি আমলে নিয়ে বাডরাসহ সমস্ত অভিযুক্তকে সশরীরে হাজিরার সমন পাঠিয়েছিল। এর আগে দিল্লির উচ্চ আদালতেও এই সমনকে চ্যালেঞ্জ করে বাডরা তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাননি। শনিবার নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশ মেনে বাডরা সশরীরে হাজিরা দিলে ইডি তাঁর জামিনের বিরোধিতা করে আরও তদন্তের জন্য সময় চায়। তবে আদালত তাঁকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয় এবং মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১০ জুলাই ধার্য করেছে।
আদালত থেকে বেরোনোর পর রবার্ট বাডরা এটিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার আস্থা অটুট। তবে আজ দেশবাসী ভালো করেই জানেন যে ইডি সম্পূর্ণভাবে সরকারের ইশারায় কাজ করছে। আমাদের পরিবার যখনই রাজনীতিতে ভালো কিছু করে, তখনই এ ধরনের পুরোনো মামলা নিয়ে হেনস্থা শুরু হয়। আমি কোনো অন্যায় করিনি, তাই ভয়েরও কোনও কারণ নেই।”


