কলকাতা পুরসভার দেওয়া নোটিসকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। তুমি যদি গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক ঘটনাক্রমের দিকে নজর রাখো, তবে দেখবে যে শাসক দলের অন্দরে এবং বিরোধী শিবিরে এই একটি বিষয় নিয়ে চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা একাধিক সম্পত্তির আইনি বৈধতা নিয়ে কলকাতা পুরসভা বা কেএমসি যে কড়া অবস্থান নিয়েছে, তা নজিরবিহীন। এই পুরো বিষয়টির সূত্রপাত কিন্তু হঠাৎ করে হয়নি। এর পিছনে রয়েছে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক নজরদারি। তুমি যদি এই ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করো, তবে দেখবে যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বেশ কিছুদিন ধরেই শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
সম্প্রতি তিনি কলকাতা এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মালিকানাধীন অন্তত ২৪টি অঘোষিত ও বেআইনি সম্পত্তির একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা জনসমক্ষে নিয়ে আসেন। এই তালিকায় থাকা প্রতিটি সম্পত্তির খতিয়ান, হোল্ডিং নম্বর এবং মালিকানার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এই রাজনৈতিক চাপ এবং আইনি বাধ্যবাধকতার জেরেই কলকাতা পুরসভা শেষ পর্যন্ত পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ তড়িঘড়ি নথিপত্র খতিয়ে দেখে মোট ১৭টি সুনির্দিষ্ট নোটিস জারি করে। এই নোটিসগুলো পাঠানো হয়েছে কলকাতা পুর আইনের ৪০০(১) ধারা অনুযায়ী, যা মূলত বেআইনি বা অনুমোদিত নকশাবহির্ভূত নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।
তুমি যদি এই ১৭টি নোটিসের আইনি গুরুত্ব অনুধাবন করার চেষ্টা করো, তবে বুঝতে পারবে যে পুর প্রশাসন এবার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য হাতে নিয়ে মাঠে নেমেছে। কেএমসি-র পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁদের পারিবারিক সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ প্রাইভেট লিমিটেডের নামে সরাসরি নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই সমস্ত সম্পত্তির অনুমোদিত ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ বা নির্মাণ নকশার আসল কপি পুরসভার আধিকারিকদের সামনে হাজির করতে হবে। যদি এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর বা বৈধ নথিপত্র না পাওয়া যায়, তবে পুরসভা আইনের নিয়ম মেনে ওই সমস্ত কাঠামোর অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
আরও পড়ুনঃ মেয়রের নীরবতা, নাকি পুরনো হিসেবের পাল্টা চাল!
শুধু তাই নয়, এই ভাঙার কাজের জন্য যে খরচ হবে, তাও বাড়ির মালিকদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে বলে নোটিসে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই আলটিমেটাম বা চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়ার ফলে আইনি লড়াই এখন এক জটিল মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। তুমি যদি এই নোটিসের তালিকায় থাকা ঠিকানাগুলোর দিকে তাকাও, তবে দেখবে যে দক্ষিণ কলকাতার সবচেয়ে অভিজাত এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোই এর মূল কেন্দ্রবিন্দু। হরিশ মুখার্জি রোড, কালীঘাট রোড, প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, পণ্ডিতিয়া রোড এবং ওস্তাদ আমির খান সরণির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে এই ১৭টি বিতর্কিত সম্পত্তি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে হরিশ মুখার্জি রোডের ১৮৮A ঠিকানায় অবস্থিত ‘শান্তিনিকেতন’ ভবনটি নিয়ে। এই বহুতল ভবনটি কাগজে-কলমে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নামে নথিভুক্ত রয়েছে। এছাড়া কালীঘাট রোডের ১১৯ এবং ১২১ নম্বর হোল্ডিং-এর সম্পত্তিগুলো নিয়েও পুরসভা অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে।
তুমি যদি নথিপত্রের আরও গভীরে যাও, তবে দেখবে যে ১২১ কালীঘাট রোডের একটিমাত্র ঠিকানাতেই পুরসভা একযোগে ৭টি নোটিস পাঠিয়েছে। এই ৭টি নোটিসের অভ্যন্তরীণ বিন্যাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মধ্যে ৫টি নোটিস সরাসরি পাঠানো হয়েছে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার ডিরেক্টরদের উদ্দেশ্যে। একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা ও মা, অর্থাৎ অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যৌথ নামে। আর সপ্তম নোটিসটি এককভাবে জারি করা হয়েছে লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। এই সুনির্দিষ্ট বণ্টনের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পুর প্রশাসন প্রতিটি হোল্ডিং-এর মালিকানার অংশীদারিত্ব ধরে ধরে আইনি জাল গুটিয়ে এনেছে। পুরসভার মূল প্রশ্নগুলো কিন্তু অত্যন্ত প্রযুক্তিগত এবং পরিমাপযোগ্য। কেএমসি-র ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আধিকারিকরা জানতে চেয়েছেন, এই ভবনগুলো নির্মাণের সময় যে মূল নকশা অনুমোদিত হয়েছিল, তার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত কত বর্গফুট এলাকা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুমানে দেখা যাচ্ছে যে, বেশ কিছু ভবনে অনুমোদিত মেঝের সংখ্যার চেয়ে বেশি তলা বা ফ্লোর তৈরি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
এর পাশাপাশি, আবাসিক বা বসবাসের জন্য নেওয়া জমিতে কীভাবে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে এবং ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার কর্পোরেট অফিস পরিচালনা করা হচ্ছে, সেই বিষয়েও জবাব চাওয়া হয়েছে। আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত বিষয় হলো ভবনের ভেতরে লিফট এবং এসক্যালেটর বসানোর নিয়মাবলী। বহুতল ভবনে লিফট বসাতে গেলে পুরসভার লিফট ইন্সপেক্টরেট এবং দমকল বিভাগের কাছ থেকে যে বিশেষ অনুমতি ও সুরক্ষাপত্র নিতে হয়, তা এই সম্পত্তিগুলোর ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছিল কি না, নোটিসে তা বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে।
এই পুরো আইনি প্রক্রিয়ার পেছনে যে বিশাল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ রয়েছে, তা তুমি সহজেই অনুমান করতে পারো। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের সময় এবং তার পরবর্তী সময়েও শাসক দলের এই পারিবারিক সম্পত্তিগুলো নিয়ে লাগাতার প্রচার চালিয়েছে বিরোধী দলগুলো। কেএমসি-র মতো একটি পুর প্রশাসন, যা সাধারণত শাসক দলের নিয়ন্ত্রণেই থাকে, তাদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যদের এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থাকে এই ধরনের কড়া নোটিস পাঠানো কার্যত নজিরবিহীন ঘটনা।
আরও পড়ুনঃ মেয়রের নীরবতা, নাকি পুরনো হিসেবের পাল্টা চাল!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া ২৪টি সম্পত্তির তালিকা এবং আদালতের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের পর পুর প্রশাসন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ যদি বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভা ব্যবস্থা না নেয়, তবে তা আদালতের অবমাননার শামিল হতে পারত। তুমি যদি এই ঘটনার সময়রেখা লক্ষ্য করো, তবে দেখবে যে নোটিসের ৭ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে চলে এসেছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে ১৭টি সম্পত্তির সমস্ত আইনি কাগজ, দমকলের ছাড়পত্র এবং লিফট বসানোর অনুমতিপত্র জোগাড় করে পুরসভার সন্তোষ উৎপাদন করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।
ফলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং স্ক্রিনিং কমিটি এই বিষয়ে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে দক্ষিণ কলকাতার এই হাই-প্রোফাইল ভবনগুলোর ভবিষ্যৎ। বেআইনি অংশ চিহ্নিত হলে তা ভাঙার জন্য পুরসভার বুলডোজার হরিশ মুখার্জি রোড বা কালীঘাট রোডের দিকে এগোবে কি না, তা নিয়ে এখন গোটা রাজ্যে জল্পনা তুঙ্গে। প্রথম ভাগের এই আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ের পর, এই তদন্তের পরিধি কীভাবে কলকাতার সীমানা ছাড়িয়ে শহরতলির দিকে বিস্তৃত হয়েছে, তা অত্যন্ত চমকপ্রদ।
কলকাতা পুরসভার এই নোটিস পর্বের জল শুধু দক্ষিণ কলকাতার আলিপুর বা কালীঘাটেই আটকে নেই, তুমি যদি এই তদন্তের ভৌগোলিক ও আর্থিক মানচিত্রটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করো, তবে দেখবে এর শিকড় অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে ঠাকুরপুকুর, জোকা এবং মহেশতলা-বিষ্ণুপুর বেল্ট এই পুরো ঘটনার এক অন্যতম প্রধান ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তুমি যদি দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক পরিকাঠামো দেখো, তবে জানবে যে ঠাকুরপুকুর হলো কলকাতা পুরসভার সীমানা এবং গ্রামীণ দক্ষিণ ২৪ পরগনার একবারে প্রবেশদ্বার। এই অঞ্চলটি সরাসরি যুক্ত রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের সঙ্গে। রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন এই ঠাকুরপুকুর-জোকা ডায়মন্ড হারবার রোড সংলগ্ন এলাকায় গত এক দশকে গড়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং সিবিআই (CBI) যখন ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ প্রাইভেট লিমিটেডের আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তি কেনাবেচার খতিয়ান তল্লাশি করতে শুরু করে, তখন এই ঠাকুরপুকুর অঞ্চলের নাম বারবার উঠে আসে। তদন্তে দেখা গেছে, নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে বাজার থেকে যে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছিল, তার একটা বড় অংশ এই অঞ্চলের জমি এবং আবাসন শিল্পে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
তুমি যদি আর্থিক পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখো, তবে দেখবে যে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলোর মোট ১৪৮ কোটি টাকার সম্পত্তি ইতিমধ্যেই ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করেছে। এই বিশাল অঙ্কের সম্পত্তির একটি বড় অংশ ছড়িয়ে রয়েছে ঠাকুরপুকুর, জোকা এবং বিষ্ণুপুর থানার অন্তর্গত বিভিন্ন মৌজায়। তদন্তকারীদের দাবি, এই এলাকায় বহু কাঠা কৃষিজমিকে রাতারাতি প্রভাব খাটিয়ে অকৃষি জমিতে রূপান্তর করা হয়েছিল এবং সেখানে বড় বড় গুদামঘর (Warehouse) ও লজিস্টিক হাব তৈরি করা হয়েছিল।
‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নামে এবং বেনামে এই অঞ্চলের একাধিক প্রোমোটিং ও কনস্ট্রাকশন সংস্থায় টাকা খাটানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। তুমি যদি স্থানীয় সিন্ডিকেট রাজের খতিয়ান নাও, তবে দেখবে যে ঠাকুরপুকুর ও বেহালা চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় বেশ কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার উত্থান ঘটেছিল এই রিয়েল এস্টেট ব্যবসার হাত ধরেই। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন শান্তু গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কিছু প্রোমোটার, যাঁদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো একাধিকবার ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। শান্তু গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো মধ্যস্থতাকারীরা মূলত ঠাকুরপুকুর, জোকা এবং পৈলান অঞ্চলের সস্তা জমিগুলো চিহ্নিত করত। এরপর সেই জমিগুলো জলের দরে কিনে বা জোরপূর্বক দখল করে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বহুতল আবাসন নির্মাণের নকশা অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হতো। এই নির্মাণকাজের পেছনের মূল পুঁজি আসত ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ বা তার ডিরেক্টরদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায়।
তুমি যদি এই পুরো আর্থিক নেটওয়ার্কের রুট ম্যাপটা বোঝার চেষ্টা করো, তবে দেখবে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কীভাবে টাকা ঘোরানো হতো, তার এক জটিল বিন্যাস ধরা পড়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের পেশ করা চার্জশিট অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকার সরাসরি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে যা বিভিন্ন ভুয়ো বা ‘শেল’ কোম্পানির মাধ্যমে ঠাকুরপুকুর অঞ্চলের প্রোমোটারদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল। এই টাকাগুলো মূলত প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ এবং অন্যান্য সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ তোলপাড় রাজ্য; টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ‘Ex CM’ বিরুদ্ধে
এই কাঁচা টাকা বাজারে সাদা করার জন্য ঠাকুরপুকুরের নির্মাণ শিল্পকে এক নিরাপদ স্বর্গরাজ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। শুধু জমি বা ফ্ল্যাট কেনাই নয়, এই অঞ্চলের বেশ কিছু বিলাসবহুল রিসর্ট এবং বিনোদন পার্কের পেছনেও বেনামি বিনিয়োগের হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। কলকাতা পুরসভার যে ১৭টি নোটিস নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে, তার সূত্র ধরে যখন ওই ২৪টি অঘোষিত সম্পত্তির তালিকা মেলানো হচ্ছে, তখন দেখা যাচ্ছে যে এই তালিকার একটি বড় অংশই দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত।
এই পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় পুর প্রশাসন এবং পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ভূমিকা। কলকাতা পুরসভার ১৪১, ১৪২, ১৪৩ এবং ১৪৪ নম্বর ওয়ার্ডগুলো, যা মূলত ঠাকুরপুকুর এবং জোকা অঞ্চলের অংশ, সেখানকার বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রেও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একাংশের মদতে এবং রাজনৈতিক চাপে বহু জলাভূমি বুজিয়ে এই সমস্ত বহুতল খাড়া করা হয়েছে বলে পরিবেশকর্মীরাও দীর্ঘদিন ধরে সরব হয়েছেন।
তুমি যদি ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়ার কথা ভাবো, তবে দেখবে যে কেএমসি-র দেওয়া ৭ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর আইনি জল কতদূর গড়ায়, তার ওপর নির্ভর করছে এই ঠাকুরপুকুর বেল্টের সম্পত্তির ভবিষ্যৎও। কারণ যদি দক্ষিণ কলকাতার মূল সম্পত্তিগুলোর ক্ষেত্রে পুরসভা কড়া পদক্ষেপ করে বা ভাঙার কাজ শুরু করে, তবে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঠাকুরপুকুর এবং জোকা অঞ্চলের এই ১৪৮ কোটি টাকার বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির ওপরেও বুলডোজার চলার বা আইনি সিলমোহর পড়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠবে। রাজনৈতিকভাবেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী, কারণ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের খাসতালুক এবং তার প্রবেশদ্বারে এই ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সাঁড়াশি আক্রমণ শাসক দলের স্থানীয় সংগঠনকে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।



