তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে কলকাতা পুরসভার নোটিস ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, এটা কি শুধুই প্রশাসনিক রুটিন? নাকি এর পিছনে রয়েছে তৃণমূলের অন্দরমহলের পুরনো দ্বন্দ্ব, অপমান আর প্রতিশোধের রাজনীতি?
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল — কলকাতা পুরসভার মেয়র এখনও ববি হাকিম। শুধু মেয়রই নন, বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বও তাঁর হাতেই। অথচ তাঁর পুরসভা থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে ৪০১ ধারায় নোটিস গেল। প্রশ্ন উঠছে, এত বড় রাজনৈতিক স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুর কমিশনার কি মেয়রের সঙ্গে একবারও আলোচনা করেননি? নাকি আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু আপত্তি আসেনি?
আরও পড়ুনঃ কেঁচো খুঁড়তে কেউটে; স্ক্যানারে এবার “ভাইপোবাবু”
বিষয়টি নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপ হলেও এর রাজনৈতিক বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। কারণ, যে সময়ে বিরোধীরা অভিষেকের সম্পত্তি নিয়ে সরব, ঠিক সেই সময় তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা নিজেই নোটিস পাঠাচ্ছে। আর সেই পুরসভার মাথায় রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম।
ঘটনাটা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে পুরনো একটি বিতর্ক মনে করলে। একসময় মেয়রের ওএসডি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি নাকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ভাঙিয়ে টাকা তুলছেন। এমনকি অভিষেকের অফিস থেকেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা হয়েছিল। যদিও পরে সেই মামলা আর বিশেষ এগোয়নি। তৎকালীন রাজনৈতিক চাপ ও সমঝোতার জল্পনাও শোনা গিয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ ধন্যি ছেলে! কলকাতা পুরসভার ৪০১ ধারায় অভিষেককে নোটিস
সেই পুরনো অপমান কি আজও ভোলেননি কেউ? দীর্ঘদিন চাপা পড়ে থাকা অস্বস্তি কি এবার প্রশাসনিক নোটিসের আকারে ফিরে এল? প্রশ্ন উঠছে, এ কি তবে “মধুর প্রতিশোধ”-এর সূচনা?
কারণ রাজনীতিতে শত্রুতা যেমন প্রকাশ্যে হয়, তেমনই অনেক হিসেব মেটে নীরবে। প্রকাশ্যে হাসি, ভিতরে ঠান্ডা লড়াই — বাংলার রাজনীতি বারবার সেই ছবিই দেখেছে।
এটা কি শুধুই বিল্ডিং প্ল্যান যাচাই?
নাকি তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয়েছে নতুন শক্তি-সংঘর্ষের ইঙ্গিত?



