রবিবার পার্কসার্কাস অঞ্চলে অবৈধ নির্মাণ ভাঙা এবং মসজিদের লাউড স্পিকার বন্ধ ইস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। কলকাতা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে ছোড়া হয় পাথর। রবিবার কলকাতার পার্ক সার্কাস চত্বরে হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অবৈধ নির্মাণ ভাঙা এবং মসজিদের লাউডস্পিকার বন্ধের ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমে বড় আকার নেয়। প্রাথমিক ভাবে ২১ জনকে আটক করলেও এই মুহূর্তে গ্রেফতার বেড়ে ৩৮।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নেমে কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। সংঘর্ষ, ইটবৃষ্টি, ভাঙচুর এবং পুলিশের লাঠিচার্জ সব মিলিয়ে রবিবারের পার্ক সার্কাস কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় জারি রয়েছে কড়া নিরাপত্তা। সোমবার এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর নাগাদ পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং এলাকায় প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মানুষের জমায়েত হয়। প্রথমে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ হলেও পরে রাস্তা অবরোধ শুরু হয়। এর ফলে পার্ক স্ট্রিট, ইএম বাইপাস, মা ফ্লাইওভার-সহ কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। বহু সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলকাতা পুলিশ এবং সিআরপিএফ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের রাস্তা খালি করার অনুরোধ জানালে আচমকাই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট ও পাথর ছুড়তে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা অশান্ত হয়ে ওঠে।
এই হামলায় ডিসি (সাউথ)-সহ অন্তত ১০ জন পুলিশকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান আহত হন বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, ক্ষুব্ধ জনতার হামলায় সিআরপিএফ-এর একটি বাস এবং পুলিশের একাধিক গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকায় পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় এবং কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয়।
ঘটনার পরই কলকাতা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। প্রথমে ২১ জনকে গ্রেফতার করা হলেও পরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০-এ। এছাড়াও অন্তত ২৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আরও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। যারা হামলা ও ভাঙচুরে সরাসরি জড়িত ছিল, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ তোলাবাজি সংস্কৃতি খতম? মলয় ঘটকের ‘ঘনিষ্ঠ’ তৃণমূল নেতা রাজু পুলিশের জালে
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, পরিস্থিতি আচমকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেক দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সন্ধ্যার পর কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়ে এলাকা। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।



