বঙ্গ রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তন। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই পরপর বদল চোখে পড়ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। একের পর এক কমিটিতেও এসেছে পরিবর্তন। আর এবার ভেঙে ফেলা হল নৈহাটির বড়মা মন্দির কমিটি। পালাবদলের পর নৈহাটির নবনির্বাচিত বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন, কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের স্থান নেই বড়মা মন্দির কমিটিতে। পাশাপাশি ভিআইপি কালচার বন্ধের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ আগামী মাস থেকেই রাজ্যে বন্ধ হচ্ছে ইমাম ও পুরোহিত ভাতা
‘ধর্ম যার যার, বড়মা সবার’, এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে অনেকদিন ধরেই পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগ উঠছিল মন্দির কমিটির বিরুদ্ধে। ভিআইপিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা আর সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, এমনই অভিযোগ বহুবার উঠেছে কমিটির বিরুদ্ধে। নবনির্বাচিত বিধায়ক আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি থাকবে না কমিটিতে। থাকবেন শুধু সেবায়েতরা।
বিধায়কের নির্দেশ মতো বড়মা মন্দিরের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত ভেঙে দেওয়া হয়েছে বর্তমান কমিটি। যতদিন পর্যন্ত না নতুন কমিটি তৈরি হচ্ছে ততদিন পুরনো কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য কাজকর্ম পরিচালনা করবেন। এতদিন পর্যন্ত মন্দির কমিটির সভাপতি ছিলেন নৈহাটি পুরসভার পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়। বিদায়ী বিধায়ক সনৎ দে, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের ছেলে ছিলেন প্রভাবশালী সদস্য।
আরও পড়ুনঃ পার্কসার্কাস কাণ্ডে তৎপর কলকাতা পুলিশ! গ্রেফতার বেড়ে ৪০
নবনির্বাচিত বিধায়কের নির্দেশ মতো গত বৃহস্পতিবার বড়মা মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের বৈঠকে নেওয়া হয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। ভিআইপি কালচারেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে এই ভিআইপি কালচারের জন্য সাধারণ ভক্তদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হত ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে। ভিআইপিদের জন্য ছিল বিশেষ ব্যবস্থা। তবে এবার থেকে আর ভিআইপি বলে কিছু থাকবে না।
বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মতো পদাধিকারীদের বাদ দিয়ে বাকি সকলকেই লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো দিতে হবে। তিনি আরও জানান, খুব শীঘ্রই নতুন কমিটি তৈরি করা হবে। কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবে না। কারণ বড়মা কোনও দলের নয়। স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে তিনি কমিটির চেয়ারম্যান পদে থাকবেন। তবে নৈহাটির বাসিন্দাদের আধার কার্ড দেখালে আগে পুজো দেওয়ার যে ছাড়পত্র চালু ছিল তা এখনও থাকবে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক।



