Tuesday, 19 May, 2026
19 May
HomeকলকাতাWB: সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত মহিলাদের, পুরুষ কি নয় মানুষ?

WB: সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত মহিলাদের, পুরুষ কি নয় মানুষ?

পুরুষ মানুষকে সমাজ অর্থ উপার্জনের যন্ত্র হিসেবে দেখে। তাঁদেরও যে দুঃখ-কষ্ট, ব্যাথা বলে কিছু রয়েছে, তার কোনও গুরুত্ব নেই সমাজের কাছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা:

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ! ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত আমরা এই কথাটাই, নিজেদের পরিবার হোক বা আশেপাশের লোক, শুনেই বড় হয়েছি। কিন্তু এটা কি আদৌ সত্যি? আমরা যে সমাজে বাস করছি, সত্যিই কি তা পুরুষতান্ত্রিক? নাকি জেনে-বুঝে আমাদের ভুলটা খাইয়ে দেওয়া হচ্ছে? বলতে গেলে, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, আশেপাশে ঘটে চলা ঘটনা থেকে, এই প্রশ্নই শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের মাথায় ঘোরাফেরা করছে। সিম্প বা ম্যাঞ্জাইনা হলে আলাদা বিষয়।

আরও পড়ুনঃ ধন্যি ছেলে! কলকাতা পুরসভার ৪০১ ধারায় অভিষেককে নোটিস

আমাদের দেশে যতদিন যাচ্ছে লিঙ্গ বৈষম্য একেবারে অন্য মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে। ভারতবর্ষে নারীদের জন্য রয়েছে একাধিক আইন। বলা ভালো, অজস্র আইন রয়েছে মহিলাদের সুবিধার্থে। কিন্তু পুরুষদের সুবিধার্থে আইনের সংখ্যা শূন্য। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে শুরু করে পশুদের জন্যও আইন রয়েছে। কিন্তু পুরুষ মানুষের ঝুলিতে নেই কোনও আইন। অবশ্য দিনের পর দিন যেই থট সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার থেকে এটাই স্বাভাবিক। নারী মানেই সে দেবী। নারী মানেই সে অবলা। অন্যদিকে, পুরুষ মানুষকে সমাজ অর্থ উপার্জনের যন্ত্র হিসেবে দেখে। তাঁদেরও যে দুঃখ-কষ্ট, ব্যাথা বলে কিছু রয়েছে, তার কোনও গুরুত্ব নেই সমাজের কাছে।

এবার আসা যাক আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলির বিষয়ে। বর্তমান শাসকদল হোক কি প্রাক্তন শাসকদল, সে কেন্দ্রে হোক বা রাজ্যে, সকলের কাছেই নারী সুরক্ষা বা নারী কল্যাণ একটা ভোটব্যাঙ্ক হয়ে উঠেছে। বলা ভালো, ওমেন সেফটি বা ওমেন এমপাওয়ারমেন্ট একটা গুরুত্বপূর্ণ সাবজেক্ট হয়ে উঠেছে, যার গণ্ডি এখনো পর্যন্ত কোনও দল পেরোতে পারেনি। আমাদের দেশে নারীদের জন্য অজস্র প্রকল্প, সে লক্ষ্মীর ভান্ডার, অন্নপূর্ণার ভান্ডার, কন্যাশ্রী হোক বা কেন্দ্রের বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও। উল্টোদিকে পুরুষদের জন্য নেই কিছু।

এবার আসা যাক এক মহা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায়। সম্প্রতি, বাংলায় হয়েছে পালাবদল। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ১৫ বছরের শাসনে দাগ টেনে মসনদে বসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়ে একের পর এক দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের আগেই গেরুয়া শিবির একাধিকবার স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে অগ্রাধিকার পাবে নারী সুরক্ষা ও নারী কল্যাণ। ঠিক সেটাই হলো। ক্ষমতায় আসতেই অন্নপূর্ণার ভান্ডারে মহিলারা পাবেন মাসিক ৩০০০ টাকা। শুধু তাই নয়, সরকারি বাসে যাতায়াত ফ্রি হয়ে গেল মহিলাদের জন্য। জুন মাসের প্রথম দিন থেকে আর বাংলার মহিলাদের ভাড়া গুনতে হবে না সরকারি বাসে।

আরও পড়ুনঃ জ্বালানির জ্বালা; ৫ দিনের মধ্যে দাম বাড়ল পেট্রোল-ডিজ়েলের

হ্যাঁ, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বেশ আকর্ষণীয় এবং প্রশংসনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু এবার বিষয়টিকে একটু অন্যভাবে দেখা যাক। পুরুষরা দিনরাত ঘন্টার পর ঘন্টা ঘাম ঝরিয়ে পরিশ্রম করেন যাতে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পেটে চার বেলার খাবার জোটে। বলছি না যে মহিলারা করেন না। কিন্তু যখন দুজনেই সমান পরিশ্রম করেন, তখন শুধু মহিলাদের বাড়তি সুবিধা কেন? বাসে-ট্রেনে মহিলাদের জন্য আলাদা সিট বা কম্পার্টমেন্ট। প্রশ্ন উঠছে যে এমন বৈষম্য কেন? তাহলে কি এখন এটা ভাবার সময় এসে গিয়েছে যে পুরুষ মানুষদের নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলই ভাবনা চিন্তা করে না? প্রতিনিয়ত কেন বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে পুরুষদের, যেখানে তাঁদের লড়াই মহিলাদের চেয়েও দ্বিগুণ কঠিন? তাহলে বর্তমান রাজ্য সরকারও কি লিঙ্গ বৈষম্যে বিশ্বাসী? এটা এখন একটু হলেও ভাবাচ্ছে অনেককে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন