রাজ্যের পালাবদলের পর এবার পূর্বতন সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তে বড়সড় বদল আনতে শুরু করল নতুন সরকার। আগামী মাস থেকেই রাজ্যে ইমাম, মোয়াজ্জেম এবং পুরোহিতদের দেওয়া মাসিক সরকারি ভাতা সম্পূর্ণ বন্ধ হতে চলেছে। সোমবার নবান্নে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই বিরাট সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পাশাপাশি, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা খাতের সমস্ত সরকারি বরাদ্দও আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা দফতরের অধীনস্থ ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে দেওয়া সমস্ত সহায়তা প্রকল্প আগামী মাস থেকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আগামী মাস থেকে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও হিন্দু পুরোহিতদের সরকারি ভাতা আর মিলবে না।
আরও পড়ুনঃ অভিযোগ জানাতে ভিড় সাধারণের, সল্টলেকে বসল শুভেন্দুর ‘জনতার দরবার’
সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা খাতে রাজ্য সরকারের যে আর্থিক বরাদ্দ ছিল, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। গত বাজেটে মাদ্রাসা উন্নয়নে যে বরাদ্দ করা হয়েছিল, তা-ও বন্ধ করা হল। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে এই খাতের ব্যয় নিয়ে আগে অনুসন্ধান করা হবে, তারপর রাজ্য সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁরা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁরাই নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর সুবিধা পাবেন। এর আবেদনের জন্য শীঘ্রই একটি নতুন পোর্টাল চালু করতে চলেছে সরকার। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি আরও জানান, যাঁরা সিএএ (CAA)-এর জন্য আবেদন করেছেন এবং যাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন।
আরও পড়ুনঃ পার্কসার্কাস কাণ্ডে তৎপর কলকাতা পুলিশ! গ্রেফতার বেড়ে ৪০
উল্লেখ্য, সরকারি ভাতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চাপা অসন্তোষ ছিল। গত বছর অগাস্ট মাসে আগের তৃণমূল সরকারের আমলে ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছিল ‘অল বেঙ্গল ইমাম মোয়াজ্জেম অ্যাসোসিয়েশন’। তাঁদের বক্তব্য ছিল, দুর্গাপুজোর অনুদান ব্যাপকভাবে বাড়ানো হলেও ইমামদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে। ভোটের আগে ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা না রাখায় পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’-র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল ওই সংগঠন।
আর এবার নয়া সরকার ক্ষমতায় আসার পরই একেবারে ধর্মীয় ভাতা বন্ধ এবং মাদ্রাসার বরাদ্দ স্থগিতের এই মেগা সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।



