রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। তারপর থেকেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে। পুলিশি পদক্ষেপের ঘটনাও সামনে এসেছে। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। সেই আবহেই এ বার হুগলির গোঘাটে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে গ্রেফতার করা হল। ধৃতের নাম রাজদীপ দে। জানা গিয়েছে, তিনি পরিচালিত কামারপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান।
আরও পড়ুনঃ নাটক শুরু! রং করতে রাস্তায় নামছেন মমতা
শনিবার গভীর রাতে গোঘাট থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। জানা গিয়েছে, তিনি তারকেশ্বরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন।পুলিশ সূত্রে খবর, তোলাবাজি-সহ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশে তাঁর খোঁজ চালাচ্ছিল। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে আত্মীয়ের বাড়ি থেকেই তাঁকে আটক করা হয়।
রবিবার সকালে রাজদীপ দে-কে আরামবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, “তৃণমূল কংগ্রেস করার জন্য সারা রাজ্যে যেভাবে নেতা-কর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে, এটাও তারই অংশ। কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে।”
আরও পড়ুনঃ বঙ্গে ‘বুলডোজার রাজনীতি’তে গর্জে উঠলেন মমতা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোঘাট ও কামারপুকুর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় স্তরে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু আগের প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশ সক্রিয় হওয়াতেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। যদিও তৃণমূলের একাংশের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই তাঁদের নেতা-কর্মীদের নিশানা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গোঘাট থানার পুলিশ।



