Wednesday, 20 May, 2026
20 May
HomeকলকাতাNH: 'ডবল ইঞ্জিন' স্পিডে উন্নয়ন! রাজি ছিলেন না মমতা, সীমান্ত সুরক্ষা ও...

NH: ‘ডবল ইঞ্জিন’ স্পিডে উন্নয়ন! রাজি ছিলেন না মমতা, সীমান্ত সুরক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার শুভেন্দু সরকারের

পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর থেকেই সীমান্ত সুরক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

মানুষের রায়ে রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর থেকেই সীমান্ত সুরক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিল দল। আর এবার ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু করল নবান্ন। সীমান্ত এলাকায় সড়ক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং উন্নয়নের গতি বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বহুদিন ধরে আটকে থাকা কেন্দ্রের প্রস্তাবে সবুজ সঙ্কেত দিয়ে একাধিক জাতীয় সড়ককে ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া এবং ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের হাতে তুলে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য। এই সিদ্ধান্তের ফলে সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এরফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

সরকারি সূত্রের খবর, মোট ৭টি জাতীয় সড়কের বেশ কিছু অংশ এখন থেকে দেখভাল করবে ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এনএইচএআই) এবং ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডে (এনএইচআইডিসিএল)। এতদিন রাজ্যের অনুমোদন না মেলায় এই প্রকল্পগুলি এগোতে পারেনি। অবশেষে সরকার বদলের পর সেই জট খুলে গেল। ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যসচিব। নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের পূর্ত দফতরের হাতে থাকা সাতটি জাতীয় সড়ক তুলে দেওয়া হচ্ছে ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া এবং ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের হাতে।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের মদতে চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ কেলেঙ্কারি! কাঠগড়ায় আইএএস নিগম ও ‘মেসার্স বিবেক’

মুখ্যসচিবের অফিস থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে উল্লেখ রয়েছে যে প্রায় এক বছর ধরে অনুমোদনের জন্য পড়েছিল এই প্রস্তাব। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রক এই বিষয়ে একাধিকবার তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রস্তাবগুলি প্রায় এক বছর ধরে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর না হওয়ায় এই সড়কগুলির উন্নয়নমূলক কাজও বন্ধ হয়ে পড়েছিল। এদিন অনুমোদন মিলে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি আর বিলম্ব না করে কাজ শুরু করতে পারবে।

কোন সাতটি হাইওয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে?

১. জঙ্গিপুর–ওমরপুর–কৃষ্ণনগর–বনগাঁ–বসিরহাট (ঘোজাডাঙা) অবধি ৩২৯.৬ কিমি রাস্তা।

২. বিহার/পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত–গাজোল রুটের পশ্চিমবঙ্গের সম্পূর্ণ অংশ।

৩. বিহার/পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত–ফরাক্কা রুটের পশ্চিমবঙ্গের সম্পূর্ণ অংশ।

৪. সেবক আর্মি ক্যান্টনমেন্ট–করোনেশন ব্রিজ–কালিম্পং–পশ্চিমবঙ্গ/সিকিম সীমান্ত অবধি ৬৬ কিমি রাস্তা।

৫. হাসিমারা–জয়গাঁও হয়ে ভারত-ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ।

৬. বারাদিঘি–ময়নাগুড়ি–চ্যাংরাবান্ধা হয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ।

৭. শিলিগুড়ি (দার্জিলিং মোড়)–কার্শিয়াং–দার্জিলিং সম্পূর্ণ অংশ।

আরও পড়ুনঃ 

কী বদলাবে?

অনুমোদন মিলতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি দ্রুত কাজ শুরু করতে পারবে। এর ফলে,

১. উত্তরবঙ্গ-বাংলাদেশ-ভুটান সীমান্ত সংযোগ আরও মজবুত হবে।

২. সীমান্ত এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা ও নজরদারি ক্ষমতা বাড়বে।

৩. পর্যটন, ব্যবসা ও পরিবহণে বড় সুবিধা মিলবে।

৪. দীর্ঘদিনের রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন জট কাটবে।

রাজ্য সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তে দার্জিলিং পাহাড়, ডুয়ার্স, সীমান্ত এলাকা ও অরক্ষিত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় উন্নয়ন হবে। সুরক্ষা বাড়ানোর পাশাপাশি, দ্রুতগতিতে অবকাঠামো উন্নয়নই এখন সরকারের লক্ষ্য।

কেন এত জরুরি ছিল এই সিদ্ধান্ত?

বিগত কয়েক বছর ধরে সীমান্তবর্তী এলাকার বহু রাস্তার অবস্থা খারাপ ছিল। আগের রাজ্য সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির প্রস্তাব আটকে থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি। সীমান্ত সুরক্ষায় সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- এই যুক্তিতেই পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপ রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষার কৌশল, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, এবং কেন্দ্র- রাজ্য সমন্বয়- তিনটিকেই নতুন দিশা দেবে।

 

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন