Wednesday, 20 May, 2026
20 May
Homeদক্ষিণবঙ্গDebraj Chakraborty: গ্রেপ্তার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডান হাত’ বাগুইআটির 'তোলাবাজ' 'ত্রাস' দেবরাজ

Debraj Chakraborty: গ্রেপ্তার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডান হাত’ বাগুইআটির ‘তোলাবাজ’ ‘ত্রাস’ দেবরাজ

পুলিশের হাতে আটক হলেন দেবরাজ। এও এক অদ্ভূত সমাপতন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর ও এমআইসি দেবরাজ চক্রবর্তীকে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা হিসেবে পরিচিত দেবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন বলে পরিচিত।   সল্টলেক-বিধাননগর এলাকার দাপুটে নেতা দেবরাজ রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সির স্বামী৷

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দেবরাজ চক্রবর্তীর কোনো খোঁজ মিলছিল না। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকার পর অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন এই যুব নেতা।

আরও পড়ুনঃ তাসের ঘরের মত ভাঙবে! ‘গৃহযুদ্ধ’ তৃণমূলে, নিশানা অভিষেককে

তৃণমূলের অন্দরে দেবরাজ চক্রবর্তী কেবল একজন কাউন্সিলর ছিলেন না। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা এবং যুব তৃণমূলের রাজনীতিতে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামোয় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

পুলিশ এখন দেবরাজ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই গ্রেফতারকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য আলোচনা শুরু হয়েছে।

তৃণমূলের অন্দরে দেবরাজ চক্রবর্তী স্রেফ একজন কাউন্সিলর ছিলেন না, উত্তর চব্বিশ পরগনা ও যুব তৃণমূলের রাজনীতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কামারহাটি থেকে বিধাননগর—পুরো চত্বরের যুব সংগঠনের রাশ নিজের হাতে রেখেছিলেন।

ক্যামাক স্ট্রিটের গুডবুক-এ নাম থাকার সুবাদে দলে তাঁর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি ছিল প্রশ্নাতীত। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইডি-সিবিআইয়ের স্ক্যানারে আগেই এসেছিলেন তিনি। এবার রাজ্য পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ তৎপরতায় শেষমেশ আটক হতে হলো তাঁকে।

সূত্রের খবর, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এবং নবান্নে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই দেবরাজ চক্রবর্তীর ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছিল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বিধাননগর পুর এলাকার একাধিক নিয়োগ ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির ডসিয়ার তৈরি করা হয়েছিল। গ্রেফতারি এড়াতে গত কয়েকদিন ধরে নিজের সমস্ত মোবাইল ফোন বন্ধ করে বেপাত্তা ছিলেন তিনি। ঘনিষ্ঠ বৃত্তেও তাঁর কোনও হদিশ মিলছিল না।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের মদতে চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ কেলেঙ্কারি! কাঠগড়ায় আইএএস নিগম ও ‘মেসার্স বিবেক’

মঙ্গলবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর সাময়িক আশ্রয়ে হানা দেয়। এরপর তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

একদিকে হরিশ মুখার্জি রোডে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস ও কালীঘাটে লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুরসভার ডিমোলিশন নোটিশ, অন্যদিকে ফলতায় জাহাঙ্গির খানের সারেন্ডার এবং তার ঠিক পরপরই দেবরাজ চক্রবর্তীর এই আটক হওয়া—সব কটি সুতোই গিয়ে মিলছে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের বৃত্তে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেটেই ওবিসি কোটা বাতিল করে যেখানে শুভেন্দু অধিকারী নিজের রাজনৈতিক জমি শক্ত করেছেন, ঠিক তেমনই সমান্তরালভাবে পুলিশ ও প্রশাসনকে লেলিয়ে দিয়ে তৃণমূলের আর্থিক ও সাংগঠনিক মেরুদণ্ডটাই ভেঙে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। দেবরাজ চক্রবর্তীর এই আটক পর্ব আগামী দিনে কোন বড় মাথার দিকে নির্দেশ করে, এখন সেটাই দেখার।

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন