উত্তরবঙ্গের ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে কেন্দ্রের বড় কৌশলগত পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলছে। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিলিগুড়িকে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক রিজিওন’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর মূল লক্ষ্য, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথকে আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী করা।
আরও পড়ুনঃ আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেফতার কোচবিহার যুব তৃণমূলের সভাপতি
‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরটি ভারতের অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা। মাত্র ২০-২৫ কিলোমিটার চওড়া এই করিডরই উত্তর-পূর্বের আটটি রাজ্যের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের একমাত্র স্থল যোগাযোগ রক্ষা করে। একদিকে নেপাল, অন্যদিকে বাংলাদেশ এবং কাছেই ভুটান ও চিনের সীমান্ত থাকায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দিল্লির এনসিআর মডেলের মতো শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে একটি বিশেষ পরিকল্পিত অঞ্চল গড়ে তোলা হতে পারে। সেখানে প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পর্যটন এবং লজিস্টিক পরিকাঠামোকে এক ছাতার তলায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অঞ্চলের জন্য আলাদা ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক রিজিওন প্ল্যানিং বোর্ড’ গঠনের ভাবনাও চলছে বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুনঃ হিন্দু ধর্মকে ‘গন্দা ধৰ্ম’ বলা মমতার নামে মামলা দায়ের শিলিগুড়ির আইনজীবীর
এছাড়াও বাগডোগরা বিমানবন্দর, নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন, এশিয়ান হাইওয়ে এবং বিকল্প পাহাড়ি রাস্তার আধুনিকীকরণের পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। উত্তরবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সংস্থা NHIDCL ও NHAI-এর হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার ‘চিকেনস নেক’ এলাকায় ভূগর্ভস্থ রেলপথ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে যাতে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়, সেই কারণেই এই ধরনের কৌশলগত পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু সামরিক শক্তি বাড়ালেই হবে না, কর্মসংস্থান, পর্যটন, বাণিজ্য ও অসামরিক পরিকাঠামোর উন্নয়নও জরুরি। কারণ অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কমাতে উন্নয়নই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে।



