Wednesday, 27 May, 2026
27 May
Homeদক্ষিণবঙ্গBJP: ‘তৃণমূলে ভালো বলে কিছু নেই, ভুল শুধরে নিন শমীকদা’, মন্তব্য শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ...

BJP: ‘তৃণমূলে ভালো বলে কিছু নেই, ভুল শুধরে নিন শমীকদা’, মন্তব্য শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতার 

তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক চললে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে বাধ্য।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের তৃণমূল প্রসঙ্গে বক্তব্যে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। শুধু সোশাল মিডিয়া নয়, দলের অভ্যন্তরের প্রতিবাদ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ট নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পাল শমীকের বক্তব্যের শুধু বিরোধিতাই করেননি এটাকে মস্ত বড় ভুল মন্তব্য বলে প্রতিবাদ করেছেন।

তৃণমূলের বিজেপি যোগ প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য ঠিক কি বলেছিলেন?

“কেউ যদি আসতে চায়। সেটা নিয়ে দল চিন্তা ভাবনা করবে। কিন্তু এখন নয়। যারা সিন্ডিকেটে ছিল, কয়লা-বালির দুর্নীতিতে ছিল, যারা চাকরি বিক্রিতে ছিল তাদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা থাকবে না। তৃণমূলের মধ্যে বহু মানুষ আছেন। অতীতেও ছিলেন। পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতায় মুখ খুলতে পারেননি বা মুখ খুলে তাঁরা দলের বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। তাঁরা কড়া নাড়লে তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে। কখন আসতে হবে কখন কড়া নাড়তে হবে।” এখানেই প্রশ্ন ওঠে ভালো তৃণমূল খারাপ তৃণমূল নিয়ে। যদিও সেই প্রশ্ন শ্রীরামকৃষ্ণ ও সারদা মায়ের কথা বলে এড়িয়ে গিয়েছেন শমীক।

বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যের পরে “ভালো তৃণমূল” নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ট্রোলের বন্যা চলছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই ভাইরাল বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির লক গেট খোলার অপেক্ষায় অগুনিত ছোট-বড় তৃণমূল নেতৃত্ব। এই বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে তীব্র নিশানা করেছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পাল। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূলে ভালো কিছু নেই। দলের নেতারা ভুল করলে শুধরে নেওয়া উচিত।”

আরও পড়ুনঃ মমতার ‘দিবাস্বপ্ন’; ১৫ বছরের ব্যর্থতার খতিয়ান ও মানুষের প্রত্যাখ্যান!

নন্দীগ্রামের তরুণ তুর্কি বিজেপি নেতা প্রলয় পাল কি বলছেন?

পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপির সহসভাপতি প্রলয় পাল শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। প্রলয় পাল বঙ্গবার্তা-কে বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের ভালো বলে কিছু হতে পারে না।” তাঁর ব্যাখ্যা, “এই দলটা আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যত স্কিম আছে তার নেতা-মন্ত্রীরা চুরি করতে অভ্যস্ত। যাদের চোর বলতে অভ্যস্ত তাদের ভালো কিছু আছে বলা যেতে পারে না। তৃণমূল কংগ্রেসের ভালো কিছু  হয় না। রাজ্যের শিক্ষা রসাতলে, সেখানে দুর্নীতি হয়েছে। শৈশব নিয়ে শিশু খেলা করেছে দুর্নীতির জন্য, শিল্প ধ্বংস হয়েছে, স্বাস্থ্য ধ্বংস হয়েছে। এদের চুরি ও দুর্নীতির জন্য যে সরকারকে সমর্থন যুগিয়ে এসেছে তৃণমূল নেতারা। তাঁরা আর যাই হোক ভালো হতে পারে না। সেই দৃষ্টিভঙ্গী থেকে আমি বলেছি।

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই নীচুতলার তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ গেরুয়া আবির মেখেছেন, কোথাও নিমিষে পার্টি অফিসে রং ও পতাকা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, রাজ্যের মানুষ ম্যাজিক দেখেছেন। এবার তৃণমূলের ছোট-বড় নেতাদের একটা অংশ পা বাড়িয়ে আছেন বিজেপির দিকে। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেছিলেন আপাতত তিন মাস তৃণমূল থেকে বিজেপিতে কাউকে নেওয়া হবে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি তারপর এক এক করে লকগেট খুলতে থাকবে? রাজনীতিতে দল পরিবর্তন খুবই স্বাভাবিক বলেই মনে করা হয়।

নন্দীগ্রামে কঠিন সময়ে দলের দায়িত্ব সামলেছেন প্রলয় পাল। নন্দীগ্রামে বিজেপির জয়ের অন্যতম কারিগর। রাতারাতি দলবল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এগুলো আমি একদম বরদাস্ত করি না। এখন আর কেউ তৃণমূল করবে না। তৃণমূল কোনও রাজনৈতিক দল নয়, তার কোনও আদর্শ নেই, তৃণমূল এমনিতেই নষ্ট হয়ে যাবে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বেঁচে থাকবে। তৃণমূল কংগ্রেসের গায়ে হাত দেওয়া মানে আমি মনে করি মৃতদেহকে ধর্ষণ করা। তৃণমূল কংগ্রেস মৃত। যাদের স্লোগান বাংলাদেশের স্লোগান হয়, তারা রাজনৈতিক দল হতে পারে না।

তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “এমন ঘটলে রাষ্ট্রবাদ প্রতিবাদ করবে। রাষ্ট্রবাদ আটকাবে। আমি বিশ্বাস করি। শুভেন্দু অধিকারী রাষ্ট্রবাদী নেতা। উনি রাষ্ট্রবাদের জন্য যা করার করবেন। বিজেপির পতাকা ধরতে ভয় পেত। পতাকা ধরে ফেসবুকে পোস্ট করতে ভয় পেত। তাঁরা এখন বিজেপির বড় লিডার! দলকে ও সংগঠনকে এই জায়গায় হাল ধরতে হবে। সংঘ পরিবার আছে। কঠিন ও কঠোর হতে হবে দলকে। নাহলে বেনোজল ঢুকে গেলে শেষ হয়ে যাবে। আমরা রাষ্ট্রবাদীরা চেষ্টা করবো বেনোজল আটকানোর জন্য।

সোশাল মিডিয়ায় শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য রীতিমতো ভাইরাল। প্রলয় বলেন, “আমিও সোশাল মিডিয়া দেখে মন্তব্য করতে বাধ্য হয়েছি। উনি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব। আদর্শবান নেতৃত্ব। বিজেপিকে প্রতিষ্ঠা করার পিছনে যথেষ্ট অবদান আছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্য বলার আগে পুরনো কর্মীদের কথা ভাবা উচিত। আমার মনে হয়েছে আদর্শবাদী নেতা শমীক ভট্টাচার্যের ওই রকম মন্তব্য করার আগে ভাবনা চিন্তা করা উচিত ছিল। ভুল হতে পারে। যে কেউ ভুল করতে পারে। শুধরে যাওয়া উচিত, লক্ষ লক্ষ কর্মীর কথা চিন্তা করে।

আরও পড়ুনঃ পুরসভায় ফের ঘর ভাঙছে TMC-র, ইস্তফা অরূপ-সুশান্তর

রাজ্যে দলবলের পরিস্থিতি:

বিজেপির ক্ষমতা দখলের পরই তৃণমূল নেতাদের একাংশ বলছে, তাঁদের জোর করে বলতে বাধ্য করেছে নেতৃত্ব। দীর্ঘদিনের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তো বলেই দিলেন নিম্ন মধ্যবিত্তের মতো জীবন কাটান! দীর্ঘ বছর মমতা বা অভিষেকের ঘনিষ্ট বৃত্তে থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করা নেতৃত্বের একাংশ নাকি কিছুই বুঝতেন না। অথচ তাঁদের কারও কারও রাজনীতিতে অবসর নেওয়ার সময় হয়ে গেল। রাজনৈতিক মহলের মতে, গুরুদাশ দাশগুপ্ত, অরুণ মৈত্রের আদর্শের কথা বলে বছরের পর বছর তৃণমূলে থাকা যায়! তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, এই নেতৃত্বরা দলে থেকে বৈভব থেকে ক্ষমতা সব কিছুর মজা নিয়েছেন। ক্ষমতা চলে যেতেই উল্টো সুর গাইছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এরাজ্যে বিধায়কের এখন কোনও প্রয়োজন নেই বিজেপির। তাছাড়া তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক চললে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে বাধ্য। প্রথমবার রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। এখন সাধারণের মন জয় করাই পদ্মশিবিরের প্রধান লক্ষ্য। একদিকে শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য অন্যদিকে মাটির সঙ্গে কাজ করা প্রলয় পালের মতো নেতৃত্বের তীব্র প্রতিবাদ। সব মিলিয়ে তৃণমূল থেকে বিজেপির যোগদানের জল্পনায় মশগুল বাংলার রাজনীতি। সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই বিজেপির। সেক্ষেত্রে দিল্লিতে তৃণমূল সংসদদের প্রতি বিজেপি কি ভূমিকা নেয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

 

 

 

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন