ক্ষমতার দাপট আর দুর্নীতির পাহাড় গড়ে ১৫ বছর বাংলা শাসন করার পর, আজ যখন বাংলার মানুষ তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতা থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে, তখনও যেন ঘোর কাটছে না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদদের বৈঠকে তিনি যে ভাষায় দলীয় কর্মীদের রাস্তায় নামার নির্দেশ দিয়েছেন, তা যেন এক ডুবন্ত জাহাজের ক্যাপ্টেনের মরিয়া আর্তনাদ।
আরও পড়ুনঃ বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, ব্যাপক লুঠপাট করা অভিষেকের বন্ধু সুমিতের শাস্তি চাইছে ডায়মন্ড হারবার
দুর্নীতিই কি তৃণমূলের একমাত্র পরিচয়?
গত দেড় দশকে বাংলায় উন্নয়নের চেয়ে দুর্নীতির খবরই বেশি শিরোনামে এসেছে। রেশন দুর্নীতি থেকে শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি—তৃণমূলের অন্দরে দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে, তা আজ বাংলার প্রতিটি মানুষ জানেন। সুদীপ পোল্লের মতো নেতাদের গ্রেফতারি কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। উন্নয়ন তো দূর, সরকারি ফাইল সই করার ক্ষেত্রেও যে পরিমাণ টালবাহানা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়েছে।
ক্ষমতার মোহে মগ্ন মমতা
সিংহাসন হারানোর পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঙ্কার শোনা যাচ্ছে— “আবার তৃণমূল ফিরবে!” এই কথা শুনে আজ বাংলার সাধারণ মানুষ কেবল হাসছেন। যারা গত ১৫ বছর ধরে লুটপাট আর স্বজনপোষণ চালিয়েছে, যাদের শাসনকালে বাংলার শিল্প মানচিত্র থেকে মুছে গেছে, তারা আবার ফেরার স্বপ্ন দেখছেন! রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা স্রেফ ‘ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্ন’। বাস্তবের মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নেত্রী আজ এক অদ্ভুত মরীচিকায় ছুটছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘পুরীতে গা-ঢাকা’; সেখান থেকেই তৃণমূল বিধায়ককে ধরল পুলিশ
জনরোষ ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত
বাংলার মানুষ অনেক আগেই তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাস্তায় নামার নির্দেশ দিয়ে কর্মীদের ক্ষোভ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন নেত্রী, কিন্তু মানুষ আজ আর তৃণমূলের প্ররোচনায় পা দেওয়ার মতো ভুল করবে না। মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল, এবং সেই পরিবর্তন আজ প্রতিষ্ঠিত। ইতিহাস সাক্ষী, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে যখন জনতা গর্জে ওঠে, তখন কোনো হুমকিই কাজে আসে না।
এখন প্রশ্ন একটাই— বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা কি আর অবশিষ্ট আছে তৃণমূলের? নাকি ক্ষমতা হারানোর গ্লানি আড়াল করতেই এই ‘লড়াইয়ের নাটক’? উত্তর দেবে সময়, কিন্তু বাংলার মানুষ তাদের রায় আগেই দিয়ে দিয়েছেন।



