সরকারি ত্রাণসামগ্রী বেআইনিভাবে মজুত রাখার অভিযোগে বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। নদিয়ার নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে শনিবার ভোররাতে আটক করে নবদ্বীপ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর বাসভবনের পাশেই অবস্থিত একটি ক্লাবে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে মজুত করে রাখা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। চেয়ারম্যানকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে।
আরও পড়ুনঃ আবার নাটক! ১ মাস পর পথে মমতা; ধরনায় বসছেন রানি রাসমনিতে
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নবদ্বীপের বরালহাট স্পোর্টিং ক্লাবে হানা দেয় পুলিশ। অভিযোগ, ক্লাবের একাধিক ঘরে সরকারি ত্রাণসামগ্রী জমা করে রাখা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল ত্রিপল, কম্বল এবং তন্তুজের শাড়ি। বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের ব্যবহারের উপযোগী বহু শাড়ি সেখানে পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ না করে এই সমস্ত ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবঘরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট ক্লাবটি চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহার ফ্ল্যাটের একেবারে পাশেই। পুলিশ দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাবে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার করে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার বাসিন্দারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমে যায় এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শনিবার ভোর ৩টা ৪০ মিনিট নাগাদ বিশাল পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বিমানকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে পৌঁছন। বাড়ি ঘিরে ফেলার পর তাঁকে বের করে পুলিশি গাড়িতে তোলা হয়। সেই সময় উপস্থিত জনতার একাংশ ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। বিক্ষোভের মাঝে তাঁর দিকে জুতো ও জলের বোতল ছোড়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি জুতো গিয়ে তাঁর মাথাতেও লাগে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করে জনতাকে সরিয়ে দিতে হয়।
আরও পড়ুনঃ জল্পনা শুরু; ভারতে কাগজের নোটের বদলে আসতে চলেছে প্লাস্টিকের নোট
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান। থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি, শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোনও ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর যোগ নেই। যদিও তাঁর বাসভবনের পাশের ক্লাবে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী কেন মজুত ছিল, সেই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তিনি দিতে পারেননি। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।



