দেশের রাজধানীতে একটি বড় মাপের জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা রুখে দিয়েছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগে ৯ জন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে গ্রেনেড, বিস্ফোরকসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। লক্ষ্য ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো , নিরাপত্তা বাহিনী এবং ধর্মীয় স্থানগুলো।
আরও পড়ুনঃ জুনের শুরুতেই দাম বাড়বে LPG Cylinder-র!
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তৎপরতার পর এই মডিউল ধরা পড়ে। গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। দাউদ ইব্রাহিমের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের চেষ্টা চলছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এটি শুধু একটি হামলার পরিকল্পনা নয়, বৃহত্তর অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা।
গুরুত্বপূর্ণ ইনস্টলেশন, সেনা ক্যাম্প, মন্দির এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর জায়গায় হামলার টার্গেট ছিল।”অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে রয়েছে সোফিস্টিকেটেড পিস্তল, গ্রেনেড এবং বিস্ফোরক। পুলিশ জানিয়েছে, এগুলো ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে আনা হয়েছিল। গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিরা দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরা পড়েছে। তাঁদের কয়েকজন নাকি পাকিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে যে তাঁরা রেকি করছিলেন দিল্লির একটি ঐতিহাসিক মন্দির, দিল্লি-সোনিপাত হাইওয়ের জনপ্রিয় ধাবা এবং হরিয়ানার একটি সামরিক ক্যাম্পের।সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বস্তির নিশ্বাস পড়েছে। দিল্লির এক ব্যবসায়ী রাজেশ শর্মা বলেন, “আমরা তো প্রতিদিন এই শহরে চলাফেরা করি। যদি এই চক্রান্ত সফল হতো, তাহলে কত মানুষের প্রাণ যেত কে জানে! পুলিশের কাজে ধন্যবাদ।”
আরও পড়ুনঃ শান্তিনিকেতনে CID! এদিকে কুনালের বাড়িতে অভিষেক
অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইএসআই-দাউদ নেটওয়ার্কের এই যোগসূত্র নতুন নয়, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এর তৎপরতা বেড়েছে।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, এই মডিউলের ফান্ডিং, রিক্রুটমেন্ট এবং লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান থেকে চালানো এই ধরনের চক্রান্ত ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি অংশ। দাউদ ইব্রাহিমের নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করে আইএসআই যে দীর্ঘদিন ধরে এদেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে, তার প্রমাণ এই অভিযানে আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।



