দিনটা ছিল ২৯ জুন ২০১০। নিজের বাড়ির সামনেই খুন হন নানুরের চারবারের সি পি আই (এম) বিধায়ক আনন্দ দাস। বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বার করে নৃশংসভাবে খুন করে তৃণমূলের জল্লাদ বাহিনী।
আরও পড়ুনঃ অভিষেকের ঘটনা তৃণমূলের সাজানো নাটক! ফ্লপ শোয়ে পরিণত পিসি ও ভাইপোর পরিকল্পনা
সেদিন প্রথমে আনন্দবাবুর বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে সিপিআই(এম)র জোনাল (বর্তমানে এরিয়া) কমিটির অফিসে হামলা চালায় তৃণমূল। পার্টি অফিস ভাঙচুর করে, বোমাবাজি করে এলাকা ভীত সন্ত্রস্ত করে তোলে তৃণমূলের জল্লাদ বাহিনী। সেই সময় কার্যালয়ে থাকা সিপিআই(এম) নেতাকর্মীরা তিনতলায় উঠে পিছনের খড়ের গাদায় লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন। সিপিআই(এম) কার্যালয়ে হামলার আঁচ পেয়ে দরজা-জানলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন সাকুলিপুরের অধিকাংশ পরিবার। আলো পর্যন্ত নিভিয়ে দেন তারা। ব্যতিক্রম ছিল প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ি। সে সময় বাড়িতে ছিল আনন্দবাবুর মেয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী চৈতি, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ঋজু এবং তাদের এক পিসতুতো দিদি। কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার খবর পেয়ে গোপালনগরে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে থেকে গিয়েছিলেন লাভপুর ব্লক অফিসের কর্মী, স্ত্রী হাসিদেবী। সে দিন দোতলা থেকে পার্টি অফিসে তাণ্ডবের দৃশ্য দেখে বাবার হাত ধরে পিছনের দরজা দিয়ে পালানোর কথা বলেছিল চৈতি। আনন্দবাবু কানে তোলেননি। চৈতির কথায়, ‘‘আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন কারও ক্ষতি করিনি। দেখিস আমার কিছু হবে না।’’ সে বিশ্বাসে ভর করেই ঘেরা বারন্দায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন আনন্দবাবু। গেটের দরজা খোলাই ছিল। পার্টি অফিসে তাণ্ডব শেষে আনন্দবাবুর বাড়ির পাশ দিয়ে ফিরছিল দুষ্কৃতীরা। রাজনীতির অলিন্দে থাকার সুবাদে অনেকের মুখ আনন্দবাবুর চেনা ছিল। বারান্দা থেকে তাদের উদ্দেশে আনন্দবাবু বলে ওঠেন, ‘‘কাজটা কি তোরা ভাল করলি?’’ কথাটা শেষ হয়নি। মুহূর্তে রে-রে করে তেড়ে আসে দুষ্কৃতীরা। টেনে হিঁচড়ে ফেলে বারান্দার সামনের চত্বরে আনা হয় আনন্দবাবুকে। শাবল দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে, বোমা মেরে খুন করা হয় আনন্দ বাবুকে বাড়িতেও তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। ততক্ষণে পিছনের দরজা দিয়ে পড়শির বাড়িতে পালিয়ে গিয়েছিল আনন্দবাবুর ছেলেমেয়েরা। এলাকা তখন থমথমে। নিস্তব্ধতা ভেঙে ডেকে চলেছে গুটি ক’য় রাস্তার কুকুর। রাত আটটা নাগাদ আনন্দবাবুর বাড়ির সামনে পৌঁছোয় পুলিশের জিপ। ততক্ষণে সবশেষ। পড়ে রয়েছে ক্ষতবিক্ষত দেহ। ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে ঝির-ঝিরে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টিতে ধুয়ে মাটিতে মিশছে রক্তের ধারা। আনন্দবাবুর ছেলেমেয়েরা তখনও জানত না বাবা আর নেই! জানতে পারে পরের দিন, ময়না-তদন্ত শেষে দেহ ফেরার পরে।
আরও পড়ুনঃ মার খেয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেন রক্তাক্ত কল্যাণ; চরম উত্তেজনা
নানুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য সহ প্রায় ৪০ জনের নামে আনন্দ দাসকে খুনের অভিযোগ করে FIR করা হয়। ১০ বছর মামলা চলার পর সমস্ত অভিযুক্তকে মামলা অব্যাহতি দেয় বীরভূম আদালত।
তৃণমূল যা পাপ করেছে তার ফল তৃণমূলকেই পেতে হবে।



