Wednesday, 3 June, 2026
3 June
HomeকলকাতাWB Gov. Free Bus: বিনামূল্যে মহিলাদের বাস সফরকে ঘিরে, সাধারণ পুরুষ ও...

WB Gov. Free Bus: বিনামূল্যে মহিলাদের বাস সফরকে ঘিরে, সাধারণ পুরুষ ও পড়ুয়াদের মনে বাড়ছে বিতর্ক ও ক্ষোভ! মুখে কুলুপ পুরুষ অধিকার সংগঠন

রাজ্যের পুরুষ অধিকার রক্ষা কর্মীদের এখনও কোনো সক্রিয় বা জোরালো ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে না।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

শুভজিৎ মিত্র, কলকাতা

গত পহেলা জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হয়েছে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের ঘোষিত বিতর্কিত প্রকল্প—”রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, যাতায়াত করতে পারবেন।” নারী কল্যাণের মোড়কে এই সিদ্ধান্তকে সরকারের এক মহৎ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, এর বাস্তব রূপায়ণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র সংশয় দানা বেঁধেছে!

বাড়তি অর্থিক চাপের বোঝা!

এই প্রকল্পের পেছনে যে, বিশাল অঙ্কের আর্থিক বোঝা চাপবে, তার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা, “রাজ্য কোষাগারের বেহাল দশা ঢাকতে শেষ পর্যন্ত হয়তো সাধারণ পুরুষ যাত্রীদের পকেট কাটা হবে?” অর্থাৎ, টিকিটের দাম বাড়িয়ে ঘুরপথে পুরুষদের ঘাড়ে এই ভরতুকির বোঝা চাপানো হতে পারে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আরও পড়ুনঃ ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৩২১টা খুনের আসামি’; বিস্ফোরক মন্ত্রী

লিঙ্গ সমতার পরিপন্থী

একবিংশ শতাব্দীর আধুনিকমনস্ক সমাজে দাঁড়িয়ে, এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই স্রেফ ‘ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখার সস্তা কৌশল’ এবং নতুন করে ‘লিঙ্গ বৈষম্য’ সৃষ্টির প্রয়াস বলে মনে করছেন। সমতার যুগে দাঁড়িয়ে, শুধুমাত্র লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে এমন একতরফা সুবিধা দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

পুরুষ অধিকার কর্মীদের নিস্ক্রিয়তা!

আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুরুষদের অধিকার ও সমতার নীতি এভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। যা সত্ত্বেও, রাজ্যের পুরুষ অধিকার রক্ষা কর্মীদের এখনও কোনো সক্রিয় বা জোরালো ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে না। সুস্থ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে যেখানে, পুরুষ অধিকার কর্মীদের সরব হওয়া সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। সেখানে তাঁদের এই নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা সাধারণ পুরুষ সমাজকে, আরও বেশি কোণঠাসা ও হতাশ করে তুলছে।

ছাত্রমনে বিরূপ প্রভাব!

জনমানসে ক্ষোভের আগুন আরও বেশি উস্কে দিয়েছে, ‘রাজ্যের ছাত্রসমাজের প্রতি চরম উদাসীনতা।’ দীর্ঘদিন ধরেই, সরকারি স্কুল ও কলেজের পড়ুয়াদের জন্য বাসে প্রচলিত ‘স্টুডেন্ট কনসেশন’ বা ভাড়ার ছাড় তুলে নেওয়া হয়েছে। যা ফিরিয়ে আনার কোনো লক্ষণই, বর্তমান সরকারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষার প্রসার ও মেধার বিকাশে যেখানে, ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতে আর্থিক স্বস্তি দেওয়া সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল। সেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বঞ্চিত রেখে, কেবল ভোট টানার রাজনীতি কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবক ও ছাত্র সংগঠনগুলো। পড়ুয়াদের এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ক্ষোভ আগামী দিনে সরকারের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে না তো?

আরও পড়ুনঃ ‘মিশন ঋতব্রত’! আজকেই আত্মপ্রকাশ করছে ‘নতুন তৃণমূল’

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস সাক্ষী থেকেছে, শুধুমাত্র জনমোহিনী প্রকল্প সবসময় শেষরক্ষা করতে পারে না। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে দেখা গেছে, নারী সুরক্ষায় ব্যর্থতা ও বিভিন্ন কারণে বিগত তৃণমূল সরকারের ওপর থেকে মহিলাদের একটা বড় অংশের সমর্থন সরে যাওয়ায় ঘাসফুল শিবিরের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। অর্থাৎ, বাংলার নারীরা আজ কেবল নিখরচায় ভ্রমণের মতো সস্তা উপহারে সন্তুষ্ট নন, তাঁরা সামগ্রিক কর্মসংস্থান ও সুশাসন চান। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নতুন বিজেপি সরকার যদি মনে করে কেবল নারীদের বিনামূল্যে বাস সফরের সুবিধা দিয়ে আগামী নির্বাচন বৈতরণী পার হওয়া যাবে, তবে তা হবে এক ঐতিহাসিক ভুল। একদিকে বঞ্চিত পড়ুয়াদের ক্ষোভ আর অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে পুঞ্জীভূত বৈষম্যের ক্ষোভ একত্রিত হলে, এই ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি আগামী দিনে পদ্ম শিবিরের জন্যই ‘বুমেরাং’ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন