স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পরেই ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করলেন শতদ্রু দত্ত। বৃহস্পতিবার রাতে তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে নিউ আলিপুর থানার হাতে স্বরূপ গ্রেফতার হতেই নিজের ফেসবুক পোস্টে শতদ্রু (যিনি ভারতে লিওনেল মেসি সফরের আয়োজক ছিলেন) লেখেন, ‘ছোটোভাই ইন,… এরপর বড়ভাই….তারপর জুঁই ফুল…ভ্যামোস।’ শতদ্রু কারও নাম না করলে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিশ্বাস ভাইদেরই নিশানা করেছেন তিনি। কারণ স্বরূপ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই। অর্থাৎ অরূপ হলেন দাদা। যাঁর বিরুদ্ধে মেসি-কাণ্ডের জন্য মানহানির মামলা করেছেন।
মেসি-কাণ্ডে কলকাতার মুখ পোড়ার জন্য দায়ি অরূপই?
আসলে গত বছরের ডিসেম্বরে লিওনেল মেসি যুবভারতীতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটার জন্য অরূপ ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের দিকেই মূলত আঙুল তোলেন অনেকে। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে সেইসময় অরূপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হয়নি। বরং আয়োজক শতদ্রুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনি প্রায় দেড় মাস জেলে ছিলেন। তারপর মুক্তি পান। আর তারইমধ্যে অরূপের দল তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার তৈরি হয়।
‘অরূপ হুমকি দেন যে আমার দাবি না মিটলে মেসির ইভেন্টই হবে না’
আর বিজেপি সরকার ক্ষমতা আসতেই অরূপ ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন শতদ্রু। ১৭ মে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। কলকাতা-সহ ভারতের বিভিন্ন শহরে মেসি ইভেন্টের আয়োজক অভিযোগ করেন, ভয় দেখিয়ে প্রচুর পরিমাণে কম্প্লিমেন্টারি টিকিট ও অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড চেয়েছিলেন অরূপ। হুমকি দিয়েছিলেন যে যদি তাঁর দাবিপূরণ করা না হয়, তাহলে মেসির অনুষ্ঠানই হবে না কলকাতায়। সেই পরিস্থিতিতে জোর করে ২২,০০০ কম্প্লিমেন্টারি টিকিট ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আর চড়া দামে কালোবাজারে বেচে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন শতদ্রু।
সেখানেই অরূপের কীর্তি শেষ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। শতদ্রু অভিযোগ করেছেন, নিজের প্রভাব কাটিয়ে যে সে লোকজনকে মাঠে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী। তার জেরে মেসিদের চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল। বাধ্য হয়ে মেসিদের দ্রুত স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যেতে হয়ে গিয়েছিল। তারপরই যুবভারতীতে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন দর্শকদের একাংশ। যাঁরা অরূপ ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের জন্য মেসিকে চোখের দেখা দেখতে পাননি একবারের জন্যও।
আরও পড়ুনঃ চুনাখালির মাদ্রাসা ঘিরে ফেলল NIA; পরনে লাল জামা, নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে পালালো শওকত মোল্লা!
অরূপকে সমন পুলিশের, আর তারপরই….
সেই মামলার প্রেক্ষিতে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দায়ের করা হয় এফআইআর। তার ভিত্তিতে সমন জারি করা হয় অরূপকে। বৃহস্পতিবার তাঁর হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অরূপ। আর তার কিছুক্ষণ পরেই স্বরূপকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।



