বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবপত্রে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে চলা তদন্তে আপাতত কোনও স্বস্তি পেলেন না তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডি-র জারি করা নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাস।
আরও পড়ুনঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্কিত মন্তব্য; লালবাজারে অভিযোগ অখিল হিন্দু মহাসভার
ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর। ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়, যেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। উপস্থিত বিধায়করা হাত তুলে সেই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। তবে বিধানসভায় জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র তখন জমা দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে ১৩ ও ১৪ মে বিধায়কদের শপথগ্রহণের সময় তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয়। অভিযোগ, ওই বৈঠকে সব বিধায়ক উপস্থিত না থাকলেও পরবর্তীতে বিরোধী দলনেতার সমর্থনে ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত একটি নথি বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়। সেই নথির স্বাক্ষরের সঙ্গে অন্য নথিতে থাকা কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরের অমিল ধরা পড়ে বলে অভিযোগ।
বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে বিধানসভার সচিব থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তের সূত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়। তাঁকে ভবানীভবনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ এতো কম কেন দিদি? পাষাণ, অহংকারী শাসকের উপহার
তবে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি নির্ধারিত দিনে হাজিরা এড়িয়ে যান এবং তদন্তকারীদের কাছে অতিরিক্ত সময় চান। এরপর সিআইডি ফের তাঁকে নতুন নোটিস পাঠায়। একইসঙ্গে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সিআইডি-র নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং তদন্তে সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি থেকে সুরক্ষার আবেদন জানান। পাশাপাশি দ্রুত শুনানির আর্জিও করা হয়েছিল। কিন্তু বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাস সেই দ্রুত শুনানির আবেদন গ্রহণ করেননি। ফলে মামলাটি এখন নিয়মিত প্রক্রিয়াতেই এগোবে।
এদিকে সই জালিয়াতি মামলার পাশাপাশি অন্য একটি তদন্তেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নোটিস পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক চাপ এবং একাধিক তদন্তের আবহে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এখন নজর আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং সিআইডি তদন্তের অগ্রগতির দিকে।



