হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে যখন রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত, তখন এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশনে এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, রাস্তা ও ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য । সেই জায়গা বেআইনি ভাবে দখল করে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না ।
আরও পড়ুনঃ কালীঘাটের দরজার এপারে CID, ওপাশে অভিষেকের উকিলরা! রক্ষাকবচের ‘ফাঁক’ দিয়েই কি ‘ভাইপো’-র গ্রেফতারি?
শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “সড়ক বা ফুটপাত দিয়ে মানুষের চলার কথা । কিন্তু সেই ফুটপাত যদি বেআইনি ভাবে দখল করে রাখা হয়, তা হলে সেটা চলবে না । কলকাতার বড় বড় চওড়া রাস্তা জনগণের হাঁটার জন্য । ফুটপাত মানুষের যাতায়াতের জন্য । এটা অন্য কাউকে দেওয়ার অধিকার আমায় কেউ দেয়নি । আমি মানুষের ভোটে জয়ী হয়েছি এবং আমার দলের বিধায়করা আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেছেন । তাই মানুষের কাছে আমি দায়বদ্ধ । তাঁদের কোনোরকম অসুবিধা আমি হতে দিতে পারি না ।”

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করার অভিযান জোরদার করেছে প্রশাসন । নিউ মার্কেট, এসপ্ল্যানেড, গড়িয়াহাট, মেটিয়াবুরুজ, খিদিরপুর-সহ একাধিক বাণিজ্যিক এলাকায় রাস্তা ও ফুটপাত দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল । যানজট, পথচারীদের দুর্ভোগ এবং জরুরি পরিষেবার চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগে প্রশাসন বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে । সেই আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে কেবল উচ্ছেদের বার্তা নয়, হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথাও বলেছেন শুভেন্দু । মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “জনগণের স্বার্থ যেখানে যুক্ত রয়েছে, সেই স্বার্থই সর্বাধিক অগ্রাধিকার পাবে । কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ আমার কাছে অগ্রাধিকার পাবে না । আমরা এবং আমি মানবিক । যেসব জায়গায় মানুষের যাতায়াতের সমস্যা নেই, সরকারের যে উদ্বৃত্ত জমি রয়েছে, সেখানে আপনারা নিজেরাই সরে যান ।”
একই সঙ্গে তিনি জানান, হকারদের জন্য কেন্দ্রের শ্রম দফতরের বিভিন্ন প্রকল্প ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে । সেই সুবিধা তাঁরা পাবেন । কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিউ মার্কেট বা মেটিয়াবুরুজ বা খিদিরপুরের রাস্তা দখল করলে চলবে না ।”
ফলে জীবিকা ও জনস্বার্থের টানাপোড়েনের মধ্যে প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, পুনর্বাসনের সুযোগ থাকলেও জনসাধারণের চলাচলের অধিকারকে সর্বাগ্রে রাখতে বদ্ধপরিকর সরকার ।


