শেষ মুহূর্তের গোলে বিদায় নিতে হল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। শেষ ষোলয় জায়গা করে নিল আয়োজক কানাডা। দক্ষিণ আফ্রিকার দারুণ ডিফেন্সিভ ফুটবলের সামনে প্রায় কোনও রাস্তাই খুঁজে পাচ্ছিল না কানাডা। ম্যাচের ৯২ মিনিটে গোল, শেষ অবধি তাদের স্বস্তি এনে দেয়। সে কারণেই, স্টিফেন ইউস্তাকিওর গোলটা কানাডিয়ান ফুটবল ইতিহাসে সোনালী অক্ষরে লেখা থাকবে।
আরও পড়ুনঃ অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে মেয়েদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ভারতের
ম্যাচের শুরু থেকেই জেসি মার্শের কানাডা আক্রমণাত্মক ফুটবলের খেলতে শুরু করে দেয়। বল দখল এবং আক্রমণে তারা অনেক গুণ এগিয়ে ছিল। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার (বাফানা বাফানা) রক্ষণভাগ ছিল প্রথমার্ধে একেবারেই নিরেট। কানাডার জোনাথন ডেভিড এবং তানি ওলুয়াসেয়ির একাধিক আক্রমণ রুখে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস। পুরো ম্যাচে উইলিয়ামস মোট ৭টি দুর্দান্ত সেভ করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে খেলায় টিকিয়ে রাখেন। প্রথমার্ধে দুই দলই ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের মুখোমুখি হলেও কোনো গোল না হওয়ায় ০-০ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও বাফানা বাফানার রক্ষণভাগের দেয়াল ভাঙতে হিমশিম খাচ্ছিল ‘লেস রুজেস’রা। তবে ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে কানাডিয়ান অধিনায়ক আলফোনসো ড্যাভিসের মাঠে আসার পর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেয়। ড্যাভিসের গতিতে ওভারল্যাপ এবং নিখুঁত পাসিং দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডারদের কোণঠাসা করে ফেলে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকাও কিছু সুযোগ তৈরি করেছে। উইঙ্গার ওসউইন অ্যাপোলিসের একটি বাঁকানো শট কানাডার গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে নিশ্চিত লিড থেকে বঞ্চিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
আরও পড়ুনঃ এক সপ্তাহের ডেডলাইন! জবরদখল হঠাতে শিয়ালদহ ও সুকান্ত সেতুতে নোটিস পুরসভার
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। রেফারি ৫ মিনিট ইনজুরি টাইম ঘোষণা করার পর, ৯২তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর সামান্য ফাঁকা জায়গা পান স্টিফেন ইউস্তাকিও। সেখান থেকেই দারুণ এক দূরপাল্লার ভলিতে রনওয়েন উইলিয়ামসকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। স্টেডিয়াম জুড়ে তখন কানাডিয়ান সমর্থকদের উল্লাস আর দক্ষিণ আফ্রিকার শিবিরে শুধুই বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাস। শেষ মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকা বেশ কিছু এরিয়াল আক্রমণ চালালেও কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো তা শক্ত হাতে সামলান।


